জবির মানোন্নয়ন পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল ‘বি প্লাস’, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে। সেখানে কেবল স্নাতক পর্যায়ে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৩.২৫ জিপিএ দেওয়ার নিয়ম বেধে দেয় প্রশাসন।
স্নাতক পর্যায়ের কোনো শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় যত ভালোই করুক না কেন, তাকে সর্বোচ্চ ৩.২৫ জিপিএ বা ‘বি প্লাস’ গ্রেড দেওয়ার নিয়মের পরিবর্তন চান শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
শুরুতে নিয়ম তৈরীর সময় তেমন আলোচনা না হলেও ধীরে ধীরে অসন্তোষ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। আর শিক্ষকরাও সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছেন না। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের গণহারে ইমপ্রুভমেন্ট দেওয়া ঠেকাতেই এ নিয়ম করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, অসুস্থতাসহ নানা কারণে তাদের পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নিতে হয়। কিন্তু মানোন্নয়নের সর্বোচ্চ ফলাফল বেঁধে দেওয়ায় তাদের গড় রেজাল্টে বড় প্রভাব পড়ে। আবার বেঞ্চ মার্ক বা ৩.০০ রেজাল্ট হলেই শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন সিস্টেমের পরিবর্তন হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করে মানোন্নয়ন রাখে না। পরের বছর আরও ভালো ফলাফল করতে পারে, সেজন্য রাখে। সেখানে যদি এমন নিয়মের বেড়াজাল কিংবা মার্কসের সীমা বেঁধে দেওয়া থাকে, তাহলে বোধহয় ইমপ্রুভমেন্ট তুলে দেওয়াই ভালো।
আবিদ হাসান নির্ঝর নামে এক শিক্ষার্থী তার পোস্টে বলেন, ‘মান উন্নয়ন পরীক্ষায় ৩.২৫ এর উপর জিপিএ দেয়না। এই নিয়ম ২০১৬-১৭ থেকে চালু করা হয়। একজন স্টুডেন্ট ৪.০০ পাওয়ার মতো পরীক্ষা দিলেও তাকে ৩.২৫ এর বেশি দেওয়া হয়না। এটা নিয়ে কেও কথা বলছে কেনো? আমাদের সকলের এটা নিয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলা উচিৎ।’
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘পারিবারিক ঝামেলার কারণে একবার কয়েকটা কোর্সে ভালো পরীক্ষা দিতে পারিনি। পরে ইমপ্রুভে যেই রেজাল্ট হল, তাতে আসলে আমার কোনো লাভ হয়নি। ওই সীমা যদি নির্ধারিত না থাকত, তাহলে আমার রেজাল্ট উঠে যেত। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নিয়ম নেই। এই নিয়ম পরিবর্তন করা জরুরি।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ফরম ফিলাপ করার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতি কোর্সের জন্য ২০০ টাকা ফি দিতে হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিলে তাকে ফরম ফিলাপের জন্য দ্বিগুণ টাকা গুণতে হয়, অর্থাৎ প্রতি কোর্সের ৪০০ টাকা ফি দিতে হচ্ছে।
অধ্যাপক খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়নে পরীক্ষা দেয় তাদের ফলাফল ভালো করার জন্য। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে মনে করি শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়নের পরীক্ষায় যে রেজাল্ট করবে তাকে সেই রেজাল্ট দেয়া উচিত। তবে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি পরিবর্তনের জন্য সেভাবে দাবি তুলেনি। সেজন্যই পূর্বের নিয়মেই সব চলছে।’
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, এবিষয়ে আমিও শুনেছি তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নিয়ম। শুরুতে আমিও এই নিয়মের বিপক্ষে ছিলাম। পরে সবার সাথে কথা বলে বুঝতে পারি অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে ইম্প্রুভ রেখে একাধিকবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নিবে৷ এটা আমার মাথায় থাকলো, আমি এটা নিয়ে কথা বলবো।