রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রুমিত্র নেই- এ চিরায়ত উক্তির বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এ দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দুই মিত্র এখন একে অপরের প্রধান প্রতিপক্ষ। বিএনপি এবং জামায়াত এখন আর বন্ধু নয়, শত্রু। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তারা এখন মুখোমুখি।
বিএনপি-জামায়াতের এ লড়াই যে শুধু জনপ্রিয়তার পরীক্ষা, তা নয়, এটি রাজনৈতিক কৌশলের খেলাও বটে। এ কৌশলের খেলায় কে জিতবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, বিএনপি কি জামায়াতের কৌশল বুঝতে পারছে?
জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে। ২০১৩ সালে যে দলের অস্তিত্ব নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, সেই দলটি আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ফ্যাক্টর। জামায়াতকে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করেন।
ফিনিক্স পাখি যেমন ভস্মীভূত হওয়ার পর আবার নতুন করে জেগে ওঠে, জামায়াতও ঠিক তেমনি। ২০১০ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে দলটি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। দলের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হন। প্রথম সারির সব নেতাই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন।
জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়। দলটি দলীয় প্রতীক হারায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দয়ায়, বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে জামায়াতের ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বিএনপির জন্য প্রধান মাথাব্যথা। মামলা, হামলা, নির্যাতন, নিপীড়নের পরও জামায়াতের উত্থান শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি উদাহরণ।
২০১৩ সাল থেকেই বাংলাদেশে জামায়াতের কর্মকাণ্ড কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। দলটিকে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গোপন কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের মতো কৌশলে তারা সংগঠন গুছিয়েছে। বিভিন্ন দলে তাদের কর্মীদের ঢুকিয়ে তারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আন্দোলন সংগঠিত করে। বিশেষ করে, এ সময়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে। ছাত্রলীগের মধ্যেই সংগঠিত হয় ছাত্রশিবির। ২০২৪ সালের আন্দোলনে এরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জুলাই বিপ্লবে জামায়াতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে জামায়াত কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলে। ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পর জামায়াত এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। এ সময় দেখা যায়, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। নীরবে-নিভৃতে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত এভাবেই সর্বস্তরে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এখানেই বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের মৌলিক পার্থক্য। জামায়াতের এই কৌশল প্রথমে বুঝতেই পারেনি বিএনপি। ৫ আগস্টের পর বিএনপি ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাদের কেউ কেউ