সব সময় সব খানে


মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সিরাজগঞ্জে আমবোঝাই ট্রাক খাদে, ব্যবসায়ী নিহত

>> তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

>> বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে আর ফেরা হলো না সিয়ামের

>> খাল খনন শেষে বিপুল পরিমাণে টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসা কড়িয়েছেন দুই ইউএনও

>> হাতীবান্ধায় ফিলিং স্টেশনে মিলছে না পেট্রোল-অকটেন, কর্তৃপক্ষের দাবি ‘সরবরাহ বন্ধ’

>> বকশীগঞ্জে ২০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ

>> সিরাজগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী গুরুতর আহত, ঢাকায় রেফার্ড

>> সিরাজগঞ্জে বাস চালককে জরিমানা করায় সড়ক অবরোধে বাজার স্টেশনে তীব্র যানজট

>> বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অনুমতি ছাড়াই রায়গঞ্জে চলছে ‘মিনি পেট্রোল পাম্প

>> মাত্র এক হাজার টাকার বিরোধে যুবককে হত্যা মামলার মূল আসামি শাহীন গ্রেফতার

আপনি পড়ছেন : বিচিত্রা

হানি ট্র্যাপ: কী, কেন, কীভাবে


মোঃ নাজমুল ইসলাম

eshomoy.com || 2025-08-18 22:21
হানি ট্র্যাপ: কী, কেন, কীভাবে

বর্তমান সময়ে 'হানি ট্র্যাপ' নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। তাই জানা যাক হানি ট্র্যাপ এর আদ্যোপান্ত।


হানি ট্র্যাপ (Honey Trap) একটি গোয়েন্দা বা প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে কাউকে প্রেম বা যৌন আকর্ষণের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে, তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, প্রমাণ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায় করা হয়।


হানি ট্র্যাপ কী?


"হানি ট্র্যাপ" শব্দটি এসেছে ইংরেজি "Honey" (মধু) ও "Trap" (ফাঁদ) শব্দ থেকে। এখানে "Honey" বোঝায় আকর্ষণ বা প্রলোভন — যা সাধারণত একজন মানুষ ব্যবহার করে অন্যজনকে ফাঁদে ফেলতে। এই কৌশল সাধারণত গুপ্তচরবৃত্তি, ব্ল্যাকমেইল, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, বা অর্থনৈতিক প্রতারণার জন্য ব্যবহৃত হয়।


কেন হানি ট্র্যাপ করা হয়?

১. গোপন তথ্য চুরি করতে — সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, বা কূটনৈতিক সূত্র থেকে গোপন তথ্য বের করে আনার জন্য।

২. ব্ল্যাকমেইল করতে — কাউকে অপদস্থ করে বা ভয় দেখিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে।

৩. রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক চাপ প্রয়োগ করতে।

৪. সামাজিক বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াতে।


 হানি ট্র্যাপ কীভাবে কাজ করে?

১. টার্গেট নির্বাচন: সাধারণত এমন কাউকে টার্গেট করা হয় যার কাছ থেকে তথ্য বা সুবিধা আদায় করা সম্ভব। যেমন: সরকারী কর্মচারী, রাজনীতিবিদ, সেনা কর্মকর্তা ইত্যাদি।

২. সম্পর্ক গড়ে তোলা: প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক শুরু করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ, বা সরাসরি পরিচয়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ক শুরু হতে পারে।

৩.আকর্ষণ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো: ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করে তোলা হয়।

৪.  তথ্য আদায় বা ব্ল্যাকমেইল: সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে গোপন তথ্য আদায় করা হয়, অথবা ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি/ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।


 কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

*অপরিচিত বা হঠাৎ ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়া ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

*অফিসিয়াল বা গোপন তথ্য কখনোই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে শেয়ার করবেন না।

*সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার সময় সাবধান থাকুন।

*সন্দেহজনক কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে দ্বিধা করবেন না।



উল্লেখযোগ্য কয়েকটি 'হানি ট্র্যাপ'

১. ফেসবুক-ভাইরাল দীপিকা আগারওয়াল কেস (ডিসেম্বর ২০২৩)

ঢাকার কড়াইল এলাকায় টিপু সুলতান ও মোসলেম রানা নামে দুই বাংলাদেশিকে ডিবি গ্রেপ্তার করে, যারা ভারতীয় “দীপিকা আগারওয়াল” নামের ফেক আইডি দিয়ে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে টার্গেটদের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করতেন। পরে তাদের স্পর্শকাতর মুহূর্তের ছবি/ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এক লাখ টাকা দাবি করছিলেন; ভুক্তভোগী শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন ।

২. ঢাকায় অভিজাত এলাকায় সিন্ডিকেট (এপ্রিল ২০২৫)

রূপালী পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, উত্তরায় চক্রগুলো সুন্দরী নারীদের দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ও গভীর সম্পর্ক গড়ে দেয়, পরে তাদের সম্মানহানির ভয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে ।

৩. অপহরণ ও মুক্তিপণ—“হানি ট্র্যাপ, অ্যাবডাকশন ও র‍্যানসাম” (মার্চ ২০২৪)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে, যারা টার্গেটদের “হানি ট্র্যাপ”-এ ফেলে অপহরণ করে তারপর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করতেন। লিটন মিয়া নামে এক পোশাক ব্যবসায়ী ৮,০০০ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করেন ।

৪. যশোরে চৌগাছায় ৬ জন গ্রেপ্তার (জানুয়ারি ২০২৫)

যশোর চৌগাছায় নারীসহ এক প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সাধারণ পুরুষদের ফাঁদে ফেলে মোটা টাকা আদায় করতেন, এমনকি পুলিশের মতো পরিচয় দিতেন ।

৫. “হানি ট্র্যাপ – মানি ট্র্যাপে” বিপর্যয় (এপ্রিল ২০২৫)

মডেল, নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞানতাবশত নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত যুক্ত করতেন, এরপর সেই ভিডিও ব্যবহার করে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি আদায় হয়, যা হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো ।