“পঞ্চগড়ের আকাশে কথা বলা ইয়াশা নূর সানা"কথোপকথনের দিনলিপির -৪
ভালোবাসা সব সময় একতরফা থাকে না। কখনও তা ধীরে ধীরে দুই হৃদয়ে আলো জ্বালায়—কথায়, নীরবতায়, অপেক্ষায়।
বাংলা মায়ের উত্তরাঞ্চলের সানা—তার চোখে প্রকৃতির দীপ্তি, তার কণ্ঠে মাটির গান। এক তরুণ লেখক-সাংবাদিক তার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন স্বপ্ন, ভরসা আর আগামী দিনের পথচলার কথা। ইহকালের বন্ধন পেরিয়ে পরকালের আশ্বাস—এই কবিতা সেই বিশ্বাসেরই অনুবাদ।
অপেক্ষার প্রহর
বাংলা মায়ের উত্তরাঞ্চলের সানা,
তোমার নাম নিলেই বুকের ভেতর
কেমন করে ওঠে ঢেউ—
যেন শীতের ভোরে কুয়াশা ভেদ করে
রোদের প্রথম আলো।
তোমার চোখে আমি শুধু সৌন্দর্য দেখি না,
দেখি আশ্রয়—
যেখানে ক্লান্ত মন এসে
নিঃশব্দে মাথা রাখতে চায়।
তোমার হাসি আমার ভাঙা দিনগুলো
আস্তে আস্তে জোড়া লাগায়।
তুমি কি টের পাও,
কত যত্নে আমি তোমাকে ভাবি?
কত রাত জেগে তোমার নাম লিখি
মনের অদৃশ্য পাতায়?
তুমি কি জানো,
আমি কতটা হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি—
শব্দে নয়, নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে?
একতরফা নয় এই ভালোবাসা, সানা,
তোমার নীরব দৃষ্টিতেও আমি পাই সাড়া।
তুমি যখন চুপ করে থাকো,
তখনও তোমার অনুভব
আমার বুক ছুঁয়ে যায়।
ভবিষ্যৎ যদি অজানা হয়, তাতে ভয় নেই,
আমি চাই—
ইহকালে তুমি হও আমার
চলার পথের ছায়া,
আর পরকালে—
আমার নামের পাশে লেখা এক শান্ত প্রার্থনা।
ঝড় এলে হাত ছাড়বো না,
অভিমান এলে ভেঙে নেবো নীরবতায়।
এই অপেক্ষা শুধু অপেক্ষা নয়,
এ এক বিশ্বাস—
যেখানে তুমি আর আমি
একই পথে, একই স্বপ্নে।