কত কিছুই তো অজানা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে! যেমন এ যে পৃথিবী শুরুই বা কোথায় আর কোথায় বা শেষ। এখনও অনেকের অজানা এ রকম নানা বিষয়। আবার জানা গেলেও ধোঁয়াশা রয়েছে সেই তথ্যটির যে কতখানি সত্যতা তা নিয়েও। তেমনই একটি জায়গা রয়েছে পৃথিবীর শেষ রাস্তা বলে।
এর পর নাকি আর কোনো রাস্তাই নেই এ কথাই বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘ এক পথ। আলো-অন্ধকারে মোড়া। ঢাকা বরফে। দীর্ঘ নিঃসঙ্গ ভয়বিহ্বল এক পথ। "দ্য লাস্ট রোড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড" রাস্তাটিকে মুখে বলা হয়ে থাকে, তবে এর E 69 Highway আসল নাম। এই রাস্তাটি যুক্ত রয়েছে নরওয়ের উত্তরমেরুর সঙ্গে।
বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে E 69 হাইওয়াতে যেতে গেলে। সেখানে একা যাওয়া নিষেধ সেগুলো না মানলে। প্রথমত পৃথিবীর শেষ পথটিতে একা যাওয়া বারণ। এখানে কাউকে একা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না E 69-র অভিনব ভৌগলিক অবস্থানের কারণে। এখানে একদিকে যেমন ভয়ানক গতিতে বাতাস বয় তেমনই এখানে ঠান্ডা।
একেবারে অনিশ্চিত এখানকার আবহাওয়া। এখানে বরফ পড়ে গ্রীষ্মকালেও। আবার যে কোনো মুহূর্তে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে যায় সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন হওয়ায়। একেবারেই বন্ধ থাকে শীতকালে এ রাস্তা। এখানে গাড়ি চালানো ভয়ানক বিপজ্জনক অতিরিক্ত তুষারপাত বা বৃষ্টি হলে। ঝড় এখানে বলে কয়ে আসে না। আর এখানে কাউকে একা যেতে দেওয়া হয় না এই অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার কারণেই।
ল্যান্ডস্কেপ ছবির মতো। মাইনাস ২৬ থেকে মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করে শীতকালে তাপমাত্রা। এমনিতেই এখানে বছরের ছয় মাস দিন আর ছয় মাস রাত। নর্থপোল দেখতে আসেন সারা পৃথিবী থেকে মানুষ। এ যেন এক ভিন্নতর জগৎ।
মানুষ মুগ্ধ হন অস্তমান সূর্য এবং মেরুজ্যোতির সৌন্দর্যে। সবুজ এবং গোলাপি আলোর খেলা গাঢ় নীল আকাশে!
আর এসবই দেখা যেতে পারে এই ই সিক্সটিনাইন হাইওয়ে ধরলে। কিন্তু এখানেই পৃথিবীর শেষ এটাই হল মুশকিল। আর রাস্তা নেই এরপর।