নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতালের প্রভাব পড়েনি জনজীবনে। ২৮ মার্চ (সোমবার) সকাল থেকেই স্বাভাবিক রয়েছে যানবাহন চলাচল। তবে সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করে রেখেছেন হরতাল সমর্থকরা।
এদিন সকাল থেকেই শাহবাগে টায়ার জ্বালিয়ে ও রাস্তার পাশের ব্যানার-পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে ব্যারিকেড তৈরি করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ সড়কে জাতীয় জাদুঘরের মধ্যবর্তী সড়ক দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়াও পল্টন এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন গণতান্ত্রিক বাম জোটের নেতাকর্মীরা। শাহবাগে হরতালের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের ছাত্রনেতারা। সড়কে ব্যানার-পোস্টার জড়ো করে লাগানো আগুন একজন নেভাতে এলে তেড়ে আসেন ছাত্ররা।
উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলিপ রায়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়, ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি ফয়জুল্লাহ, ছাত্র ফ্রন্টের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য, ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ প্রমুখ।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে আধা বেলা হরতাল কর্মসূচি পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর তৎপরতা বন্ধের দাবিতে এ হরতাল পালন করছেন তারা।
হরতালে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। তবে হরতালে ধ্বংসাত্মক কাজসহ জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আর জোটের নেতারা বলেছেন, দুর্গতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই সাধারণ মানুষ হরতালে সমর্থন দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া না হলে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে।