মার্চে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মোট ১,৪২৬ জন প্রাণ হারান, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। -এমনটাই জানিয়েছে সিরিয়ার একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।
কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৬ মার্চ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যখন উৎখাতকৃত স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ এর অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠী নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায় এবং ২৩৮ জনকে হত্যা করে।
এর প্রতিক্রিয়ায়, দেশের অন্যান্য অংশ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওই অঞ্চলে পাঠানো হয় এবং তাদের সঙ্গে হাজার হাজার সশস্ত্র বেসামরিক লোক যোগদান করে।
কমিটির মুখপাত্র ইয়াসের আল-ফারহান জানান, প্রায় ২,০০,০০০ সশস্ত্র ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয় এবং যখন তারা পাড়া ও গ্রামে প্রবেশ করে, তখন তাদের অধিকাংশই "সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।"
"এই দলগোষ্ঠী সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় আকারে হামলা চালায়, রাস্তা অবরোধ করে এবং হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে," -বলেন আল-ফারহান।
ঐ সময় যুক্তরাজ্যভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস' জানায় যে, ১,৬০০'র বেশি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আসাদের সাথে সম্পর্কিত সংখ্যালঘু আলাউইত জাতিগোষ্ঠীর সদস্য।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সুয়েইদায় সুন্নি মুসলিম বেদুইন গোত্র ও দ্রুজ সংখ্যালঘু সশস্ত্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত বেদুইনদের পক্ষাবলম্বন করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পরেও ১,০০০ জনের বেশি মানুষ হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে, ২২ জুলাই।