তেহরানের একটি আদালত নারী অধিকার রক্ষায় সক্রিয় হাসতি আমিরিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রকাশ্যে হিজাব না পরে উপস্থিত হওয়া। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
আমিরি বলেন, তেহরানের একটি বিপ্লবী আদালত তাঁকে “মিথ্যা তথ্য ছড়ানো”র অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০০ মিলিয়ন রিয়াল (৫৬২ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছে।
এছাড়াও, “রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা”র অভিযোগে তাঁকে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড এবং প্রকাশ্যে হিজাব না পরার জন্য ৩০.৩ মিলিয়ন রিয়াল (৩৭ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।
আমিরি লিখেছেন “যখন শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করাটাই রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা হিসেবে ধরা হয়, তখন মৃত্যুদণ্ড নিজেই এক ধরনের রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।”
আমিরি, তেহরানের আল্লামেহ তাবাতাবায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন। তিনি এর আগে ২০২২ সালে মৃত্যুদণ্ড ও নারীর অধিকারের পক্ষে প্রচারণার জন্য এক বছরের সাজার মধ্যে সাত মাস কারাভোগ করেছিলেন।
তিনি আরও লিখেছেন, “কারাবন্দিদের অবস্থা এবং এভিন কারাগার নিয়ে কথা বলাটাও এখন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বলে বিবেচিত হচ্ছে।”
আদালত তাঁকে আরও অতিরিক্ত শাস্তি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুই বছরের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনে যোগ না দেওয়ার শর্ত।
রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমিরি বলেন, তাঁর এই লড়াই আদর্শের পক্ষে দাঁড়ানো, কারাবন্দি সহযোদ্ধাদের পাশে থাকা এবং মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য।
তিনি লিখেছেন, “দিনশেষে একজন মানুষের জানা উচিত, সে কতটা পথ হেঁটেছে… আশা করি একদিন আমরা সব ফাঁসির মঞ্চ আর গ্যালো বন্ধ করে দেব।”
আমিরির এই রায় এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানে দমনপীড়ন জোরদার হয়েছে। গত বছর ছাত্র আন্দোলনকারী খাশায়ার সেফিদি, ভিন্নমতাবলম্বী র্যাপার তুমাজ সালেহির মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করার কারণে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড পান।