সব সময় সব খানে


রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্ভোধন

>> মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, আখক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

ইরানের শাসন পরিবর্তনে প্রিন্স রেজা পাহলভীর প্রতি ইসরায়েলি সমর্থন


মোঃ নাজমুল ইসলাম

eshomoy.com || 2025-09-04 20:11
ইরানের শাসন পরিবর্তনে প্রিন্স রেজা পাহলভীর প্রতি ইসরায়েলি সমর্থন
প্রিন্স রেজা পাহলভী

ইরানিদের আস্থা ও সমর্থন পাওয়া নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভীকে সমর্থন করে ইসরায়েল - ইরানের বিরোধী সম্প্রচারমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-কে জানান ইসরায়েলের বিজ্ঞান মন্ত্রী গিলা গামলিয়েল। এটি প্রথমবারের মতো কোনো ইসরায়েলি মন্ত্রীর সরাসরি পাহলভীর শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানানোর নজির।


গামলিয়েল বলেন, “পছন্দটা ইরানি জনগণের, কিন্তু আমরা দেখছি তারা রেজা পাহলভীর ওপর আস্থা রাখছে এবং তাকে সমর্থন দিচ্ছে। আমরাও ইসরায়েল থেকে তাকে সমর্থন করি, কারণ আমরা দেখছি ইরানি জনগণ তার পাশে আছে।”


২০২৩ সালে পাহলভী তৎকালীন গোয়েন্দা মন্ত্রী গামলিয়েলের আমন্ত্রণে ইসরায়েল সফর করেন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু এবারই প্রথম নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কেউ প্রকাশ্যে পাহলভীর নেতৃত্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের প্রতি সমর্থন জানালেন।


ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং প্রতিবাদ


ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা শুরু করে এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।


১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইরানের কিছু অঞ্চলে জল ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দারিদ্র্য নিয়ে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ শুরু হয়, তবে এর ব্যাপ্তি সীমিতই ছিল।


গামলিয়েল বলেন, “যুদ্ধের মাঝখানে কেউই রাস্তায় নামবে, এমনটা আশা করা যায় না। তবে আমরা ইরানিদের দেখিয়েছি তাদের সরকার কতটা দুর্বল। এ সরকার তার জনগণ এবং গোটা বিশ্বের ক্ষতি করছে।”


তিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইরানি জনগণ যখন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেবে, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো—পুরো শক্তি ও সদিচ্ছা নিয়ে।”


শাসন পরিবর্তনের পর ইসরায়েল-ইরান সম্পর্ক


প্রশ্ন করা হলে, ইসরায়েল ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়, গামলিয়েল বলেন:

“আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ কল্পনা করি, যেখানে দুই জাতি একসঙ্গে কাজ করবে। কৃষি, জ্বালানি, পানি ও প্রযুক্তিতে ইরানের সমস্যাগুলোর জন্য ইসরায়েলের কাছে অনেক সমাধান রয়েছে।"


নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত পূর্বেও শাসন পরিবর্তনের পর ইরানকে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে সাহায্যের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।


ইসরায়েলে প্রিন্স রেজা পাহলভীর দল


গামলিয়েল এসব মন্তব্য করেন পাহলভীর পাঠানো বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধি দলকে ইসরায়েলে স্বাগত জানানোর পর।


তিনি বলেন, “প্রিন্স রেজা পাহলভীর পাঠানো দল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এসেছে। আমরা আশা করি একদিন এই সহযোগিতা তেহরানে চালিয়ে যেতে পারবো। ইরানি জনগণ একা নয়। আমরা এখানে আছি—প্রতিক্রিয়া জানাতে, সমাধান দিতে এবং একটি উন্নত যৌথ ভবিষ্যৎ গড়তে।”


তিনি ইহুদি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি, ইরান ও ইসরায়েলকে ২,৫০০ বছরের পুরনো সহযোগিতায় ফিরে যেতে হবে—যখন সাইরাস দ্য গ্রেট ইহুদিদের দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। প্রিন্স রেজা পাহলভী এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে আমরা একটি ‘সাইরাস অ্যাকর্ড’ অর্জনের লক্ষ্য রাখি—যা ইসরায়েল ও ইরানের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলবে।”


‘সাইরাস অ্যাকর্ড’ এর আহ্বান


সিনিয়র উপদেষ্টা সাঈদ ঘাসেমিনেজাদ ‘সাইরাস অ্যাকর্ড’কে ইরান-ইসরায়েলের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যতে কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতা ভবিষ্যতের ইরানকে পানি সংকট, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে।


পাহলভীর প্রতিক্রিয়া


এক্স (সাবেক টুইটার)-এ রেজা পাহলভী লেখেন, “ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ ও মন্ত্রী গিলা গামলিয়েলকে ধন্যবাদ, এমন এক সময়ে আমার বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দেখা করার জন্য যখন ইরানি জনগণ ভয়াবহ পানি সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ভেঙে পড়া অর্থনীতির মুখে। এই মিশন ‘ইরান প্রসপারিটি প্রজেক্ট’-এর অংশ, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র পতনের পর ইরানের পুনর্জাগরণের রূপরেখা।”


তিনি আরও লেখেন, ইরানি ও ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞরা কেবল বর্তমান দুর্ভোগ মোকাবেলা নয়, বরং ভবিষ্যতের “সাইরাস অ্যাকর্ড”-এর ভিত্তিও গড়ে তুলবেন—যা ইসরায়েল ও একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।