ইউক্রেনের দক্ষিণ সীমান্তে সৈন্য সংখ্যা দ্বিগুণ করছে বেলারুশ। বেলারুশ প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ঘোষণা করেছেন, সীমান্তে পাঁচটি কৌশলগত ব্যাটালিয়ন গ্রুপ আগামী দুইদিনের মধ্যে ১০ ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি তার নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, এসব ব্যাটালিয়ন গ্রুপ উচ্চ প্রশিক্ষিত মোবাইল গ্রুপ। এ গ্রুপের সেনারা বেলারুশের বিরুদ্ধে যে কোনো উস্কানি এবং যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে প্রস্তুত।
লুকাশেঙ্কো এ সেনা সমাবেশকে ‘একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ বাহিনী ইউক্রেনীয় ঝুঁকি ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ রোধ করবে।
ইউক্রেন সংকটে মস্কোকে শক্ত সমর্থন জানিয়ে আসছে বেলারুশ। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলো বেলারুশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এর আগে রাশিয়াকে সহায়তা করার জন্য বেলারুশ ইউক্রেনে নিজস্ব সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল।
রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র বেলারুশের উত্তরে ইউক্রেনের সীমান্ত রয়েছে। এর স্বৈরাচারী সরকার রাশিয়াকে সামরিক অস্ত্র ফেলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে।
প্রায় দুই মাস ধরে ইউক্রেন সীমান্তে ২ লাখ সেনা জড়ো করে রাশিয়া। রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বারবার সতর্কতা দিয়েছিল। কিন্তু বরাবরই ইউক্রেনে হামলা চালানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেয় রাশিয়া।
এর মধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এরপর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ধ্বংস করে বিভিন্ন বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেন থেকে পালাচ্ছে লাখো মানুষ। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনারা।
পরে যুদ্ধবিরতিতে আসতে ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলারুশে প্রথমবার আলোচনায় বসে রাশিয়া-ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। তবে আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। তাই দুই দেশকেই দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতে হচ্ছে।