আমেরিকায় অভিবাসীদের সাফল্যের কাহিনির ভান্ডারে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের গল্প আলাদা করে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গড় পারিবারিক আয় তাঁদের। ফরচুন-৫০০ কোম্পানির শীর্ষ পদে রয়েছেন একাধিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও। মার্কিন কংগ্রেসে আছেন ছয়জন সদস্য, আছেন দুই সাবেক গভর্নর। এমনকি, এফবিআই ও সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতো (সিডিসি) ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদেও রয়েছেন অনেকে। সব মিলিয়ে ভারতীয়-আমেরিকানদের প্রভাব, সাফল্য আর মূলধারার সঙ্গে ভারতের স্বার্থ সুরক্ষার ধারণা বারবার সামনে উঠে এসেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিলেও এ প্রভাবশালী প্রবাসী গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া প্রায় নেই বললেই চলে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন ফি ১ লাখ ডলার করেছে, যে ভিসার ৭০ শতাংশই পান ভারতীয়রা। ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের কৌশলগত উন্নয়ন প্রকল্পে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা। শিক্ষার্থী ভিসা ও অভিবাসনের পথও করেছে কঠিন। এমনকি নানাভাবে ভারতকে অপমানও করা হয়েছে। অথচ এসব ঘটনায় প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতিবাদ শোনা যায়নি।
এই
নীরবতা বিস্ময়কর! ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো বাধা নেই। ভারতীয়-আমেরিকানরা সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় বোর্ড, থিঙ্কট্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা রাজনৈতিক প্রচারণায় অর্থ অনুদান দেন, সিনেটরদের পরামর্শ দেন, নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে কংগ্রেস সদস্যদের এক বৈঠকে এক মার্কিন প্রতিনিধি ভারতীয় এমপিদের জানিয়েছিলেন—তাঁর অফিসে ভারতের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে কোনো ফোনকলই আসেনি। অথচ ইসরায়েল ইস্যুতে তাঁর অফিসে অসংখ্য কল আসে নিয়মিত। তাহলে কেন ভারতের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সময় প্রবাসীরা মুখ খোলেন না?