ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করলে তেল আবিব ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘সব সমর্থন’ হারাবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন-মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে গত ১৫ অক্টোবর টাইম ম্যাগাজিনে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে পশ্চিম তীর বা এর কিছু অংশ ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের মতামত জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হবে না। এটা হবে না। এটা হবে না কারণ আরব দেশগুলোকে আমার কথা দিয়েছি। তোমরা (ইসরাইল) এখন এটা যুক্ত করতে পারো না। আমাদের প্রতি আরব দেশগুলোর প্রচুর সমর্থন রয়েছে। ইসরাইল পশ্চিমতীর অধিগ্রহণ করতে পারবে না কারণ আমি আরব দেশগুলোকে কথা দিয়েছিলাম। যদি এটা হয় তাহলে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘সব সমর্থন’ হারাবে।’
গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করতে ইসরাইলি পার্লামেন্টে একটি বিলে প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বুধবার ইসরাইলি পার্লাামেন্ট নেসেটে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করা ও ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত দুটি বিলে প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়। ১২০ সদস্যের নেসেটে ২৫-২৪ ভোটে পাস হয় বিলটি। আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে মোট চার ধাপের ভোটাভুটির প্রথম ধাপ ছিল এটি।
নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরের জুডিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে ইসরাইল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করার জন্য প্রাথমিকভাবে বিলটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরপর নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে এ নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করা নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নেসেটে গৃহীত পদক্ষেপ এবং পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নৃশংসতা গাজা শান্তিচুক্তির জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রুবিও বলেন, নেসেটে একটি ভোট হয়েছে। কিন্তু, আমি মনে করি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরইমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমরা এখন এই সিদ্ধান্তে সমর্থন করব না। বরং এটি শান্তি চুক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তারা তাদের ভোট দেবে। মানুষ তাদের অবস্থান নেবে। কিন্তু এই মুহূর্তে, আমরা এটাকে সমর্থন করি না।