ক্রমেই জটিল হচ্ছে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত পরিস্থিতি।
৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বরাবর ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে দুই দেশের সেনারা। তাদের
মুখোমুখি সংঘর্ষে সেনা সদস্যসহ নিহত হয়েছেন অনেকে। এছাড়াও, দুই দেশেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন
কয়েক লাখ মানুষ।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, কম্বোডিয়ার হামলায় এ পর্যন্ত ১৫ থাই সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।
এ
হামলায় থাইল্যান্ডে অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া, সংঘর্ষের ফলে থাইল্যান্ডে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন চার লাখের বেশি মানুষ।
আল
জাজিরার তথ্যানুসারে, থাই সেনাদের হামলায় কম্বোডিয়ার ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং হয়েছেন ৭৫ জন। দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১ লাখের বেশি মানুষ।
এ
অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো। স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া।
তবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা অস্বীকার করেছে দেশ দু’টি। শনিবার থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্ণভিরাকুল বলেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে তাদের যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।
পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে নিজেদের সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কম্বোডিয়া। আর কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর একটি প্রদেশে কারফিউ জারি করেছে থাইল্যান্ড।
অন্যদিকে, যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব হাজির করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বিনিময়ে দুই দেশের সীমান্তে আসিয়ানের সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাদের নেতৃত্ব দেবে মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী।
তার এই প্রস্তাবে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত সম্মতি জানালেও, সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড।