লেবাননে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গোলা হামলায় ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এএফপি, আলজাজিরাসহ বেশকয়েকটি সংবাদমাধ্যমের আরও ছয়জন সাংবাদিক।
আরও পড়ুন- ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে বিপদ, এবার বেলজিয়ামের ভিসা নিষেধাজ্ঞা
রয়টার্সের তদন্তে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর লেবাননের আলমা আল-চাব গ্রামের কাছে ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে আন্তঃসীমান্ত হামলার খবর সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় একটি সাংবাদিকদের গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। এতে রয়টার্সের ভিজ্যুয়াল সাংবাদিক ইসাম আবদুল্লাহ (৩৭) এবং গুরুতরভাবে আহত হন এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস (এএফপি) ফটোগ্রাফার ক্রিস্টিনা অ্যাসি(২৮)।

রয়টার্স ৩০ টিরও বেশি সরকারী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সামরিক বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক তদন্তকারী, আইনজীবী, চিকিত্সক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে ঘটনার বিশদ বিবরণ তদন্ত করে বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থাটি সেই সময়ে ওই এলাকার আটটি মিডিয়া আউটলেটের কয়েক ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ এবং হামলার আগে ও পরে শতাধিক ছবি পর্যালোচনা করেছে, যার মধ্যে উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি রয়েছে।
আরও পড়ুন- ইসরায়েলিদের ওপর ইইউর ভিসা নিষেধাজ্ঞা চায় জার্মানি
তদন্তের অংশ হিসেবে, রয়টার্স ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের ব্যবহৃত গাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাক জ্যাকেট, একটি ক্যামেরা, ট্রাইপড এবং একটি বড় ধাতুর টুকরোসহ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
এ বিষয়ে রয়টার্স ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর কাছে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে এবং অভিযোগ করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা জানত যে তারা সাংবাদিকদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। কারন এএফপি, আল জাজিরা এবং রয়টার্সের সাতজন সাংবাদিকের দলের সবাই নীল ফ্ল্যাক জ্যাকেট এবং হেলমেট পরা ছিল, বেশিরভাগের গায়ে সাদা অক্ষরে ‘প্রেস’ লেখা ছিল।
আরও পড়ুন- ইসরায়েলের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
এর জবাবে আইডিএফ-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট বলেছেন, ‘আমরা সাংবাদিকদের টার্গেট করি না।’ তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে গাজার মিডিয়া অফিস।
ইসময়/রআ/এমআরএম