রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ডালের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ডালের দাম বেড়েছে দেড়গুণ।
বাজারে নেই আমদানি সংকট কিংবা সরবরাহ ঘাটতি। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে ডালের দাম ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বলছে, এক বছরের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৪৪ শতাংশ। সংস্থাটির হিসাবে গত বছরের একই সময়ে ভারতীয় বড় দানার মসুর ডালের কেজি ছিল ৬৫ টাকা। এখন তা কিনতে ১০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। আবার মাঝারি দানার (দেশি) মসুর ডালের দাম ছিল ৮০ টাকার মতো। তা হয়ে গেছে ১১৫ টাকা। আর আমদানি করা ছোট দানার মসুর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি। যদিও খুচরা বাজারের বাস্তব চিত্রে সরকারি এই হিসাবের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি।
টিসিবির হিসাব বলছে, মসুর ডালের সঙ্গে বেড়েছে অ্যাংকর ডালের দামও। ৩৮ থেকে ৪০ টাকার অ্যাংকর বছরের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। দাম বাড়ায় পিছিয়ে নেই খেসারি ও মুগডালও।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ২৯ মার্চ খুচরা পর্যায়ে আমদানি করা ভারতীয় মসুর ডালের কেজি ১০৫ থেকে ১১০ এবং দেশি মসুর ১৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আর ছোট দানার মসুর ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। এ ছাড়া মুগ ডালের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ এবং অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এর মাঝে দোকানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দামের পার্থক্য রয়েছে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে বড় দানার মসুর ডাল ৯২, মাঝারি দানা ১১৬ ও ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২১ থেকে ১২২ টাকা কেজি। ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকার মতো বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।
পাইকারিতে খেসারির ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা কেজি। বাজারে তিন ধরনের মুগডাল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভালো মানের মুগ ডাল পাইকারিতে ১১৪ টাকা কেজি। অন্য মুগ ডালের কেজি ৭২ টাকা। পাইকারিতে এক সপ্তাহে মুগ ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। আর অ্যাংকর ডালের কেজি ৪৯ থেকে ৫০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট ডাল উৎপন্ন হয় ৯ লাখ ৩১ হাজার ২১০ টন। এর মধ্যে খেসারি দুই লাখ ৯৬ হাজার ৯৮১ টন, মসুর দুই লাখ ৫৮ হাজার ৪৬২ টন ও মুগ দুই লাখ ৫২ হাজার ২৬৭ টন। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ দুই হাজার ৮৭ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মসুর, অ্যাঙ্কর, ডাবলি ছোলাসহ সব ধরনের ডাল মিলিয়ে দেশে মোট বার্ষিক চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে গড়ে উৎপাদন হয় ৯ থেকে ১০ লাখ টন। ফলে প্রতি বছর চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ ডালের ঘাটতি থাকে। এই ঘাটতি পূরণে ১৭ লাখ টনের মতো ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।