আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ১৩টি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, মাইক্রোক্রেডিট, ইন্স্যুরেন্স ও এনবিএফআইসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে আন্তঃলেনদেন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, নগদ টাকার লেনদেন কমাতে পারলে স্বভাবতই দুর্নীতি কমে আসবে। আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে।
দেশে বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি ৮০ লাখ। মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে প্রতিদিন ন্যূনতম ৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অল্প সময়েই পৌঁছে যায় পরিবারের হাতে।
প্রান্তিক মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোয় মাইক্রোক্রেডিটের ভূমিকা যেমন বাড়ছে, তেমনি নগদ টাকার যুগ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পেমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ারও এটি উপযুক্ত সময়। যে পথে অনেক আগেই এগিয়ে গেছে উন্নত বিশ্ব।
এবার সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবার গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগের পরিকল্পনায় রয়েছে-দেশের সব মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে লেনদেনের সক্ষমতা তৈরি, ডিজিটাল ব্যাংকিংকে আরও উন্নত করা, মাইক্রোক্রেডিট ও ইন্স্যুরেন্স সেবা একীভূত করা, এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-এনবিএফআইকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ইন্সট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ‘ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম’ তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
এতে গভর্নর বলেন, আগামী ২০২৭ সালের জুলাইয়ে এ উদ্যোগ শতভাগ অপারেশনাল হবে। দেশের পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে এই সিস্টেমের আওতায় আনা গেলে অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, কর আদায় বাড়বে এবং দুর্নীতি কমবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সব মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস, মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে আন্তঃলেনদেন সম্পূর্ণরূপে সহজ ও তাৎক্ষণিক হয়।