বাংলাদেশ আজ এক অদৃশ্য প্রাণঘাতী জনস্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। খাবারে ভেজাল তার প্রধান কারণ। প্রতিদিন নিয়ম করে খাবার গ্রহণ করছে সবাই কিন্তু অজান্তেই শরীরে যাচ্ছে নানা বিষাক্ত উপাদান। ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, দুধ, ফল থেকে শুরু করে মসলাসহ কোনো খাদ্যই এখন নির্ভরযোগ্য নয়। মাঠের ফসল তোলা থেকে শুরু করে শহরের রেস্তোরাঁর রান্নাঘর সব জায়গায় ভেজালের থাবা- এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছে যে নিরাপদ খাদ্য আজ প্রায় অসাধ্য বাস্তবতা। এমনকি ভেজাল থেকে রক্ষা পায়নি প্রাণ রক্ষাকারী ওষুধও।
সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে এসেছে নানা উদ্বেগজনক তথ্য। বাজারে প্রচলিত খাদ্যপণ্যের প্রায় ৬০ শতাংশেই কোনো না কোনোভাবে ভেজাল মেশানো রয়েছে। যদিও কিছু পণ্যে ভেজালের পরিমাণ তুলনামূলক কম, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। বাজারে পাওয়া দুধে ফরমালিন, ডিটারজেন্ট, সোডার মতো ক্ষতিকর উপাদান মিলছে; মাছ ও ফলমূল সংরক্ষণে ব্যবহূত হচ্ছে বিপজ্জনক কেমিক্যাল; মাংসে বাড়তি ওজন দেখানোর জন্য দেয়া হচ্ছে ইনজেকশন; এমনকি শিশুখাদ্যেও যোগ করা হচ্ছে ক্ষতিকর রং ও স্টার্চ।
পুরোদেশ যেন ভেজাল খাদ্যের এক নীরব বিপর্যয়ের মধ্যে বন্দি। নিশ্চিতভাবে এমন কোনো খাবারের নাম বলা কঠিন, যেখানে ভেজাল নেই। চাল, ডাল, আটা, মসলা, কলা, দুধ থেকে শুরু করে মিষ্টি সব ধরনের খাদ্যেই ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে যাচ্ছে। অধিকাংশ ফল পাকানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে, আর কিছু খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ে রং করার রঞ্জক। এসব ভেজাল খাদ্য প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের কোটি কোটি মানুষের পেটে।
চমকে দেয়ার মতো আরেকটি তথ্য হলো- শিশুখাদ্য এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধেও ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মাঠের কৃষিপণ্যেও নির্বিচারে প্রয়োগ করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। ফলে জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। বাড়ছে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিলতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীতে বিক্রি হওয়া মিষ্টির প্রায় ৯০ শতাংশেই ক্ষতিকর রং ও সংরক্ষণকারী পদার্থ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার, হূদরোগ এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)-এর সামপ্রতিক এক গবেষণা দেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা খাদ্য নমুনার প্রায় ৫২ শতাংশই ভিন্নমাত্রার দূষণে আক্রান্ত। প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা ৮২ ধরনের খাদ্যের মধ্যে গড়ে ৪০ শতাংশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রহণযোগ্য সীমার