কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রথম রাষ্ট্রায়াত্ত কোনো ব্যাংককে জরিমানা করল বিনিয়োগসংক্রান্ত কারণে । সোনালী ব্যাংককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া অবৈধ বলে। জরিমানা করা হয়েছে মূলত শেয়ারবাজারে ব্যাংকটি বিনিয়োগ সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করেছে সম্প্রতি শেয়ারবাজারের আইনি সীমার বেশি বিনিয়োগ করায় বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের দায়ে। ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও এনআরবি ব্যাংককে ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার কেনায় প্রবাসী উদ্যোগে গঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে । ইসলামি ধারার এক্সিম ও প্রচলিত ধারার প্রিমিয়ার ব্যাংককেও পরে আরও জরিমানা করা হয় ।
এর আগে চিঠি দেওয়া হয় সোনালী ব্যাংকের নীতিবহির্ভূত এই কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চেয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২২ নভেম্বর (সোমবার) ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অর্থদণ্ডের সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দেয় ব্যাখ্যা পছন্দ না হওয়ায় । ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী শেয়ারবাজারে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগ ওই ব্যাংকের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
কিন্তু আইসিবিকে টাকা দেওয়ায় সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৬০ শতাংশে। এই আইন পরিপালনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৩ সালে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োজিত অপর কোনো কোম্পানি বা স্টক ডিলারকে দেওয়া ঋণের স্থিতি, মঞ্জুরিকৃঋণসীমা ও তাদের সঙ্গে রক্ষিত তহবিলের স্থিতি ২৫ শতাংশের হিসাবের মধ্যে পড়বে।
আইসিবিসহ শেয়ারবাজারে সোনালী ব্যাংক যে বিনিয়োগ করেছে, ২০১৭ সালে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে ধরা পড়ে, তা ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বিনিয়োগ ।
দেড় হাজার কোটি টাকা তখন আইসিবিতে সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগ ছিল। গত ২৬ আগস্ট ৫০০ কোটি টাকার মেয়াদ পূর্তি হয় আইসিবিকে দেওয়া দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে। সোনালী ব্যাংককে ফেরত দেয় আইসিবি সুদসহ টাকা । আবারও ৫০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করে আইসিবি গত ১৭ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের কাছে ।