মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম অবশেষে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
দেশে ফিরে তিনি বলেন, “এখনও গাজা মুক্ত হয়নি, সেখানে এখনো আক্রমণ চলছে। আমাদের কাজ শেষ হয়নি। গাজাবাসীদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তার তুলনায় আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা কিছুই নয়।”
দেশবাসী, বাংলাদেশ সরকার এবং যারা তার মুক্তির জন্য বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন—সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শহিদুল আলম। তিনি বলেন, “এই মুক্তি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তবে ফিলিস্তিনকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমাদের লড়াই শেষ নয়।”
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহিদুল আলমের মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শহিদুল আলমকে আটক করার পরপরই প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে জর্ডান, মিশর ও তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মুক্তি নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে তেল আবিব থেকে তুরস্কে পৌঁছান শহিদুল আলম। জানা যায়, তিনি ছিলেন ‘কনশানস’ জাহাজের সদস্যদের মধ্যে একজন। এই জাহাজে থাকা সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ক্রু সদস্যদের বুধবার ভোরে অপহরণ করে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী।
বাংলাদেশে ফিরে তিনি আবারও মানবিক সহায়তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।