সব সময় সব খানে


রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্ভোধন

>> মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, আখক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

আপনি পড়ছেন : সিলেট

বৃষ্টিমাখা সকাল পেরিয়ে কবিতার রোদের দেখা-সিলেটের এমসি কলেজে শরৎ উৎসবের জোয়ার।


ছাইম ইবনে আব্বাস(সিলেট প্রতিনিধি)

eshomoy.com || 2025-09-18
বৃষ্টিমাখা সকাল পেরিয়ে কবিতার রোদের দেখা-সিলেটের এমসি কলেজে শরৎ উৎসবের জোয়ার।


বর্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপময় বাংলার ঋতু পরিক্রমায় স্নিগ্ধতা ও কোমলতা নিয়ে আবির্ভূত হয় শরৎকাল।শরতের সূচনা  এটি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের সাক্ষী।

প্রকৃতির কোলে পরিবর্তনের আসন্ন ছবি আঁকে শরৎকাল। আকাশে সাদা তুলোর মতো ভেসে চলে মেঘের খেয়া, আর চারপাশে আমন ধানের সবুজ চারার ওপর ঢেউ খেলে যায় এক উদাসী হাওয়া। প্রকৃতির এই চিরন্তন সৌন্দর্যের মাঝে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এম.সি) কলেজ আয়োজন করেছে ‘শরৎ উৎসব ১৪৩২’

১৮ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের আকাশ ছিল মেঘলা, রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজে উঠেছিল এমসি কলেজের প্রাঙ্গণ। বৃষ্টির কারণে সামান্য বিলম্ব হলেও, আবহের সঙ্গে এক অপূর্ব ছন্দ মিলিয়ে শুরু হয় ‘শরৎ কবিতা উৎসব ১৪৩২’-এর বর্ণিল আয়োজন। সকাল ১১টায় শহীদ মিনার চত্বরে যখন আকাশ পরিষ্কার হতে থাকে, ঠিক তখনই কবিতা, অনুভব আর শরতের সৌন্দর্য নিয়ে প্রাণ ফিরে পায় উৎসবের মঞ্চ।
উৎসবের সভাপতিত্ব করেন মুরারিচাঁদ কবিতা পরিষদের প্রাণপুরুষ মইনুল হাসান আবির। আর সঞ্চালনার মঞ্চে আবেগ আর ছন্দে মুগ্ধতা ছড়ান নাঈমুল ইসলাম গুলজার ও অনুশুয়া বিশারদ অতসী।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এমসি কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম আহমদ খান। তিনি বলেন, “যখন আকাশ পরিপূর্ণভাবে নির্মল হয়, তখন মানুষের মনও প্রসারিত হয়। কবিতা সেই নির্মলতারই এক গহীন ভাষা।” তাঁর কণ্ঠে ছিল সাহিত্য, সৌন্দর্য ও মানবিকতার অনুরণন।

অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ও গভীরতা আরও বাড়িয়ে দেন উপস্থিত বিশেষ অতিথিরা, যাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্যে মঞ্চ হয়ে ওঠে আরও উজ্জ্বল। শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর মোঃ গিয়াস উদ্দিন ছিলেন এক উজ্জ্বল আলো, যিনি কবিতা ও শিক্ষার মেলবন্ধনের কথা তুলে ধরেন অনুপ্রেরণার ছন্দে। তাঁর পাশে ছিলেন এমসি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো. রিয়াজ— যাঁর স্মৃতিময় উপস্থিতি যেন কলেজ জীবনের এক আবেগময় অধ্যায়কে ফিরিয়ে আনে।

তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মুরারিচাঁদ কবিতা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর সুনীল ইন্দু অধিকারী, যাঁর নিরবিচ্ছিন্ন স্নেহ ও তত্ত্বাবধান এই পরিষদের শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছে। তাঁর সঙ্গে ফৌজিয়া আজিজ ও অঘ্রাতা সৌরভ তাঁদের মমতাময় উপস্থিতি ও সাহচর্যে অনুষ্ঠানটিকে করে তোলেন আরও প্রাণবন্ত, আরও হৃদয়গ্রাহী।

এই বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে “শরৎ কবিতা উৎসব” যেন হয়ে ওঠে শুধু একটি সাহিত্যিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা—যেখানে কবিতা, মানুষ আর প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠে গভীর সংযোগ।

বৃষ্টি ভেজা সকালে শরতের এমন এক কবিতাময় সূচনা কলেজ ক্যাম্পাসে এনে দেয় এক স্বপ্নিল পরিবেশ — যেন প্রকৃতিও হাত বাড়িয়ে দেয় কবিতার আহ্বানে।
মুরারিচাঁদ কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—"শরৎ উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি অনুভূতির প্রকাশ। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির প্রতি সম্মান জানাচ্ছি। এই উৎসবের মাধ্যমে সিলেটের তরুণদের মাঝে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৃজনশীলতার প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে।"

এ বছরও, উৎসবটি বাংলার সাংস্কৃতিক চিত্রে নতুন রঙ যোগ করেছে এবং তা সবার হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে। শরৎ উৎসব ১৪৩২ শুধু শরতের আগমনকেই বরণ করেনি, বরং এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত উদযাপন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।