শুরুতে নুয়ান তুশারার তাণ্ডবে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করলেও, শেষদিকে ঝড় তুলে পুষিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নবি। শুধু শেষ ওভারেই পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এ ব্যাটার। তাতে শঙ্কায় পড়লো বাংলাদেশের সুপার ফোরের যাত্রা।
আবুধাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান সংগ্রহ করল আফগানিস্তান। ২২ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন নবি। লঙ্কান বোলারদের পক্ষে সবচেয়ে সফল তুশারা ১৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন।
তুশারা তাণ্ডবে ঠিকঠাক লড়াইয়ের পুঁজিটাই পাচ্ছিল না আফগানিস্তান। ৭৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারানোর পর নবি ও রশিদ খানের কল্যাণে কোনোরকম শতরান পার করে তারা। ১৮তম ওভার শেষেও তাদের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১২০ রান। কিন্তু শেষ দুই ওভারে ঝড় তুলে সব ওলটপালট করে দেন নবি। ১৯তম ওভারে ৩টি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর, শেষ ওভারে দুনিথ ভেল্লালাগেকে টানা পাঁচটি ছক্কা হাঁকান তিনি। এ দুই ওভারে আসে ৪৯ রান। ২২ বলে ৬ ছক্কা ও ৩ চারের মারে ৬০ রান করে ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন তিনি।
এদিন ব্যাট হাতে শুরুটাও খারাপ ছিল না আফগানদের। প্রথম দুই ওভারেই দলের খাতায় ২৬ রান যোগ করেন দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আতল। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে জোড়া উইকেট তুলে শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ে ফেরান তুশারা। ৮ বলে ১৪ রান করে এজ হয়ে স্লিপে ধরা পড়েন গুরবাজ। ৩ বলে ১ রান করে লাইন মিস করে বোল্ড হন করিম জানাত।
এক
ওভার পর আক্রমণে এসে আরেক ওপেনার আতলের উইকেটও তুলে নেন তুশারা। ১৪ বলে ১৮ রান করে লঙ্কান পেসারের বলে লাইন মিস করে বোল্ড হন আতল। দলীয় ৬৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানরা। ১৬ বলে ৯ রান করে দুশমন্থ চামিরার বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন দারউইশ রাসুলি। ১২তম ওভারে দাসুন শানাকার বলে ইনসাইড এজ হয়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই বোল্ড হলে বিপর্যয়ে পড়ে আফগানরা। ৪ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন এ ব্যাটার। তিন বল পর দুনিথ ভেল্লালাগেকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ইব্রাহিম জাদরান। ২৭ বলে ২৪ রানে থামেন এ ব্যাটার।
চাপের মুহূর্তে ক্রিজে নেমে মোহাম্মদ নবির সঙ্গ নিয়ে দলকে পথ দেখান অধিনায়ক রশিদ খান। ৩৫ রানে জুটিতে পার করে দেন শতরান। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে রশিদকে বোল্ড করে সে জুটি ভাঙেন তুশারা। ২৩ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রান করে দলীয় ১১৪ রানে আউট হন আফগান অধিনায়ক। পরের গল্পটা সাজান নবি একাই।
এদিন লঙ্কান বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন