দেশের কনসার্ট সংস্কৃতি এখন যেন নাটকের চেয়েও বড় নাটক। অমুক আসছে, তমুক আসছে—হাইপ তুলতে আয়োজকদের জুড়ি নেই। দেদারসে বিক্রি হয় টিকিট, গৎবাঁধা বার্তা ‘সোল্ড আউট’। আমন্ত্রিত শিল্পীরাও ছবি-ভিডিও পোস্ট করে জানায়, তারা আসছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাটক হয়ে ওঠে থ্র্রিলার মানে সিনেমা। ভেস্তে যায় আয়োজন। অবশেষে সেই মুখস্ত সংলাপ; ভেন্যু জটিলতা বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল এবারের কনসার্ট।
গত
দেড় দুই বছরে কনসার্ট নিয়ে এমন ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত। বিশেষ করে পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে এই ব্যবসা রমরমা। শিল্পী মুস্তফা জাহিদ—এলো কবার, গেলো কবার, কিন্তু দেখা মেলেনি কোনো কনসার্টের। তালিকায় আছে কাবিশ, আছে জাল ব্যান্ড, আজমত আলী। মাঝে আরজিত সিং, আনুভ জেইনদের আসার গুঞ্জনও হয়েছিল জোরেশোরে, কিন্তু সেগুলো, আগেই বাতিল। আর এখন চলছে আতিফ আসলাম মিস্টিক ড্রামা।
টিকিট বিক্রি হচ্ছে, হচ্ছে সোল্ড আউটও। কিন্তু যারা টিকিট কিনেছেন, তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে—ভেন্যু জটিলতায় কি শেষ মুহূর্তে কনসার্ট বাতিল হয়, নাকি পুরোটাই একটা স্ক্যাম? আগের সফল আয়োজকরা বলছেন, শেষ রাতে ভেন্যু জটিলতার কোনো সুযোগই নেই।
এ
বিষয়ে ঢাকা ব্রডকাস্টের প্রধান নির্বাহী রুদান আল আমিন তৃনান বলেন, শোয়ের আগেরদিন ভেন্যু জটিলতার সুযোগ নেই। ভেন্যু আমরা দুই মাস আগে বুক দিয়ে রাখি। কারণ আমাদের একটা ইন্টারন্যাশাল আর্টিস্ট আনতে যখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়, ভেন্যু বুক করেই করতে হয়। না হলে আমরা আবেদন করতে পারব না।
ত্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের এমডি প্রীতম দে বলেন, আমরা মনে হয় ভেন্যু জটিলতা না, এটা সম্পূর্ন নিরাপত্তা ইস্যু। যার কারণে শো স্থগিত হয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একই বক্তব্য—ভেন্যু জটিলতা কনসার্ট বাতিলের যুক্তিসঙ্গত কারণ হতে পারে না।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, যেকোনো কনসার্ট আয়োজন করার ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের অনুমোদন লাগে। শেষ মুহূর্তে যদি তারা বলে যে আমরা অনুমোদন না পাওয়ার কারণে কনসার্ট স্থগিত করছি এটার দায় তো সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ওপর বর্তায়।
বাতিল হওয়া কনসার্টের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি কোনো বক্তব্য। এদিকে বিদেশি শিল্পীরা আসছেন, যাচ্ছেন, কিন্তু, প্রতারিত হচ্ছেন ভক্তরা। ফলে দেশের কনসার্ট শিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
প্রীতম দে বলেন, এটা আমাদের বহির্বিশে প্রভাব ফেলছে।
রুদান আল আমিন তৃনান বলেন, এটা আসলে সবার জন্যই খারাপ। আমার ব্যবসার জন্য খারাপ। দর্শকের জন্য খারাপ। আর্টিস্টের জন্যও খারাপ।
কনসার্ট যেমন আনন্দের, টাকায় টিকিট কিনে কনসার্ট দেখতে না পাওয়াটাও তেমনটাই বিষাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রোতাদের আবেগ কাজে লাগিয়ে কেউ যেন প