দেশে নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানালেও, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
২৯ সেপ্টেম্বর, রোববার, জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি এই সাক্ষাৎকারটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দেন।
ড. ইউনূস আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা এবং নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নয়। তাদের দায়িত্ব দ্রুত নির্বাচন দেওয়া এবং দেশকে স্থিতিশীল করা। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে ড. ইউনূস বলেন, তরুণরা তাদের দাবি সফলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে, এবং তাদের মতামত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, তরুণদের চিন্তা-ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে এবং আগামী ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, "যাই হোক না কেন, আমি ড. ইউনূসের পাশে থাকব, যাতে তিনি তার মিশন সম্পন্ন করতে পারেন।" তিনি মনে করেন, দেড় বছরের মধ্যে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য ধৈর্য ধরে কাজ করা উচিত।