বেসিসের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. মেহেদী হাসান
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মুহম্মদ মেহেদী হাসান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালক (বাণিজ্য সংগঠন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহর স্বাক্ষরিত এক আদেশে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসিস একটি নিবন্ধিত বাণিজ্য সংগঠন হলেও সম্প্রতি নেতৃত্বের সংকট ও গঠনতান্ত্রিক সমস্যার কারণে কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না।
পদত্যাগ ও পুনর্গঠনের অসঙ্গতি: গত ১৭ ও ১৯ অক্টোবর যথাক্রমে বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তবে তাদের পদত্যাগপত্র যথাযথভাবে দাখিল হয়নি। পরবর্তী সময়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও তা গঠন প্রক্রিয়ায় ত্রুটিপূর্ণ ছিল।
অভিযোগ ও শুনানি: বৈষম্যবিরোধী আইসিটি উদ্যোক্তা কাউন্সিল, প্রকৌশলী পরিষদ এবং সাধারণ সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিশ জারি করা হয়। ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে আগের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন না এবং পুনর্গঠিত কমিটিও সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়।
চলমান সংকট ও প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা ও অসন্তোষ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বেসিসের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়হীনতার কারণে সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭(১) ধারা অনুযায়ী, বেসিস পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি হয়ে পড়ে।
প্রশাসকের দায়িত্ব:
ড. মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশে বলা হয়েছে:
তিনি বেসিসের সকল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করবেন।
নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।
এই নিয়োগকে বেসিসের সদস্যরা নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।