অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ব্যবসা শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ওয়াকাথন ও সমাজসেবা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, “ব্যক্তির ক্ষমতা কখনও কখনও সরকারের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। আর যদি মানুষের ব্যক্তিসত্তা জাগ্রত করা যায়, তাহলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। সমাজসেবা শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সেই দায়িত্ব সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষা এবং সমাজের উন্নয়ন সম্ভব। “সবার কাছে দায়িত্ববোধের আহ্বান পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সমাজসেবা দিবস পালিত হচ্ছে,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বরাদ্দ
জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৬ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে এখন এই সেবা জিটুপি পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ড. ইউনূস বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর দারিদ্র্য দূরীকরণ, প্রবীণ ব্যক্তি, সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও কিশোর-কিশোরী, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী, গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
জনহিতকর কার্যক্রমের প্রশংসা
ড. ইউনূস আরও বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর সীমিত জনবল ও সম্পদের মধ্যে মোট ৫৪টি জনহিতকর কর্মসূচি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা পাচ্ছে।”
তিনি বলেন, সমাজসেবার মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের এই প্রচেষ্টা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।