ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে সরকারি চাকরি, বিদেশে পাঠানোসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাকরির কথা বলে টোপ দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করত লাখ লাখ টাকা। মন্ত্রী-এমপির স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণা করছিল তারা।
পুলিশ রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে।
বগুড়ার আলমগীর নামে এক ব্যক্তি কয়েক মাস আগেই জামাতার চাকরির জন্য পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন এ চক্রের মূলহোতা হারুন অর রশীদের হাতে। হারুনের আশ্বাস ছিল মোটা বেতনের চাকরি দেবেন জামাতাকে। এমন অনেকেই প্রতারিত হয়ে হারিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। গতকাল ১৬ জানুয়ারি (রোববার) রাজধানীর পল্টন থানা এলাকা থেকে এ চক্রের মূল সদস্যসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, পল্টন থানায় মিরাজুল ইসলাম নামে (৩১) এক ভুক্তভোগীসহ চার ভুক্তভোগী এ সংক্রান্ত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৬ জানুয়ারি (রোববার) চক্রের মূলহোতা হারুন অর-রশিদকে (৩৬) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেকেন্দার আলী (৩৪) ও মাসুদ রানাকে (২৩) কাফরুল থানার মিরপুর-১৪ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
১৭ জানুয়ারি (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মেট্রো সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন।
ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আবেদনপত্র, ভিকটিমদের স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্লাংক চেক, ব্লাংক স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব চাকরিতে পদ কম থাকে সেইসব চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায় চক্রটি। এরপর চক্রটি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে নেয়। কাকতালীয় ভাবে কখনো কারও চাকরি হয়ে গেলে তার কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় চক্রটি।