সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে দুর্নীতি: ঈশ্বরগঞ্জে কাবিখা প্রকল্পে হরিলুট

প্রকল্পে বঞ্চিত হতদরিদ্র শ্রমিকরা


নিজস্ব প্রতিনিধি

eshomoy.com || 2025-04-22 19:54
কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে দুর্নীতি: ঈশ্বরগঞ্জে কাবিখা প্রকল্পে হরিলুট
কাভিখা প্রকল্পে নির্মিত রাস্তার ছবি


ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। অতি দরিদ্র, ভূমিহীন ও বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করা গম প্রকল্পের নামে আত্মসাৎ করা হয়েছে বিভিন্ন কৌশলে। কাগজে কলমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তব মাঠে কাজ হয়নি, আবার যেসব কাজ হয়েছে, তার অনেকটাই হয়েছে নিয়মবহির্ভূতভাবে।


২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়জোড়া বাইতুলনূর জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ হয় ১২.৪৩০ মেট্রিক টন গম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি। এমনকি মসজিদের লোকজন পর্যন্ত জানেন না কোনো গম বরাদ্দের কথা। প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


মগটুলা ইউনিয়নের তরফ পাছাইল গ্রামে রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ হয় ১০.৭৮৯ মেট্রিক টন গম। কিন্তু কাজ এখনও অর্ধেক বাকি। প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য শরাফ উদ্দিন ইতোমধ্যে দুই কিস্তিতে গম তুলে নিয়েছেন। রাস্তার ইটের গুণগত মান এতই নিম্নমানের যে কিছু ইট ইতোমধ্যেই পাশের পুকুরে গড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন বর্ষা মৌসুমে রাস্তা একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।


ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর রাস্তা থেকে খৈরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তায় বরাদ্দ হয় ৭.৮০৯ মেট্রিক টন গম। কিন্তু এই প্রকল্পে শ্রমিক না দিয়ে এক্সকেভেটর দিয়ে কাজ করা হয়েছে, যা কাবিখা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। অনেক স্থানে মাটি ফেলার পরিবর্তে রাস্তার নিজস্ব মাটি কেটে সমান করা হয়েছে।


সরিষা ইউনিয়নে একটি রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া ৪.৫০০ মেট্রিক টন গম উত্তোলন করা হলেও মাঠের কাজ হয়েছে মাত্র অর্ধেক। প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক কাজ না হওয়ার কারণ হিসেবে ধান কাটার সময় না পাওয়ার অজুহাত দিয়েছেন।


সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় আঠারোবাড়ি ইউনিয়নে। এখানে দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া গমের একটি ব্যয় হয়েছে একটি অপ্রয়োজনীয় রাস্তায়, যেখানে মানুষের চলাচলই নেই বললেই চলে। আর অন্য প্রকল্পে একই রাস্তা দেখিয়ে দুইবার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে এবং একটি প্রকল্পের পুরো ৯ মেট্রিক টন গম আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে শ্রমিক ব্যবহার না করে এক্সকেভেটর ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।


প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোথাও কোনো সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়নি। শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে গম প্রদানের নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে গম ট্রাকে করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ঘটছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে।


উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “গম বিক্রি অবৈধ হলেও সবাই গম বিক্রি করে টাকা দেয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, “যদি কোন কাজ না করা হয় তাহলে আমি কাজ করার নির্দেশনা দিবো। ইতোমধ্যে আজ আমি আঠারোবাড়ির কাবিখা প্রকল্প পরিদর্শনে এসেছি।”


সরকারি উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের জন্য নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আজ দুর্নীতির ফাঁদে পড়ে বিশ্বাস হারাচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণ এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।