২২ জানুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সদরের আদর্শ বিএল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আকস্মিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ব্যাংক কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র বর্মণ (৩৭)।
পলাশ চন্দ্র বর্মণ গত ১২ জানুয়ারি তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ‘সময়ের বিধান সবাইকে মেনে নিতে হয়’। এই স্ট্যাটাস দেওয়ার ১০ দিনের মাথায় নিজের আকস্মিক মৃত্যু দিয়ে তা প্রমাণ করে গেলেন।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের কুড়িগ্রাম প্রিন্সিপাল অফিসে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে পলাশ চন্দ্র বর্মণ কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইনচার্জ ওয়াহেদ্দুনবী।
ডিজিএম ইনচার্জ আরও জানান, মৃত পলাশ চন্দ্র বর্মন লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার নওদাবাস গ্রামের অধিবাসী। তিনি বিবাহিত এবং তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি পার্শ্ববর্তী উলিপুর উপজেলা সদরের জোরদারপাড়া এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত পলাশ চন্দ্র বর্মণ পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা হলেও ধর্মীয় আলোচনায় পারদর্শী ছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় আলোচনার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হতো।
সোনালী ব্যাংকের রাজারহাট শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা জানান, মৃত পলাশ চন্দ্র বর্মন একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।
শনিবার ওই ধর্মীয় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে সভার আয়োজকরা তাকে দ্রুত জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, হার্ট অ্যাটাকে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু ঘটেছে।
এদিকে শনিবার রাতেই তার মরদেহের সৎকারের জন্য তার নিজ বাড়ি লালমনিরহাটের নওদাবাসে গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।