কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগরে দোকান তালা দেয়া ও চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া কে কেন্দ্র করে শোয়েব গং কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলায় তিনজন মহিলা সহ মারাত্মক আহত হয়েছে ৮ জন। আহতরা হলেন আবু তাহের মিয়া আবু তাহের মিয়ার ছেলে নাঈম,শাহাবুদ্দিন,মহিউদ্দিন, তাহেরের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ জসিম মা দিলোয়ারা বেগমসহ পুত্রবধূ শিরিন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিকেলে দু ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সাইদুর রহমান গণকণ্ঠকে বলেন, মাদ্রাসা থেকে দোকান ভাড়া নেয় তাহের মিয়ার ছেলে কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল আটকে রাখে তারা। এই নিয়ে বাইতুল করিম মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।
পরবর্তীতে শর্ত ভঙ্গ করায় গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দোকান তালা লাগিয়ে দেয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম পর্যায়ে হাতাহাতি ও কথা কাটাকাটির হয়। উভয়পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।যদি উপায় পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমাধান না হয়। তাহলে সন্ধ্যায় থানার মাধ্যমে সমাধান হবে উভয় পক্ষ থেকে ২ থেকে ৩জন প্রতিনিধি দিতে বলেছি। কিন্তু বিকেলে শুনতে পাই বিষয়টি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।এই নিয়ে পরবর্তীতে স্থানীয়বাসীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয় প্রিমিয়ার সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ।
আবু তাহের মিয়ার ছেলে মোঃ নেজাম গনকন্ঠকে জানান, মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ সোয়েব ও আনোয়ার উল্লাহ সহযোগিতায় ১০ থেকে ১৫ জন মিলে আমার পরিবারের উপরে হামলা চালায়। বিনা নোটিশে আমাদের দোকান বন্ধ করে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। আমরা যে দুইটি দোকান রয়েছে মেরামতের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একটার জন্য ১লক্ষ ২০হাজার আরেকটার জন্য এক লক্ষ টাকা দিয়েছে যার কোন লিখিত তথ্য আমাদের দেয়নি। আমরা তিন মাসের সময় চেয়েছি আমাদের বকেয়া গুলা তোলার জন্য কিন্তু কোন সময় না দিয়েই বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের দোকান বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে আমরা যখন জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলাম আমাদের দোকান বন্ধ করলে বকেয়া টাকা গুলা উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। আমাদের কোন কথার গুরুত্ব না দিয়ে তারা ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এতে আমার পরিবারের মহিলা সহ ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমার বাবার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।বর্তমানে সবাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এমন কি সোয়াইব গংয়ের সন্ত্রাসীরা আমার দোকানে থাকা বিকাশ এবং ইজি লোডের টাকা এক লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আমার গর্ভবতী স্ত্রীর উপর পেটের উপর শারীরিক ভাবে আঘাত করে। সে এখন ব্যাথায় কাতরাচ্ছে মেডিকেলে। তারা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ,কিরিচ ও হকিস্টিক নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।
কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান গণকণ্ঠ কে জানান, ওই ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেন নি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।