শেরপুরের শ্রীবরদীতে বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে ভারতীয় অবৈধ জিরা ও শাড়ি ভর্তি একটি ট্রলি আটকের পর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নের ভায়াডাংগা বাজার এলাকায় ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা জিরা ও শাড়ি ভর্তি একটি ট্রলি আটক করেন বিএনপি নেতা মোঃ সাহাদাত হোসেন লাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২ নং রানিশিমুল ইউনিয়ন এবং মোঃ হারুন মিয়া, সভাপতি শ্রমিকদল ২ নং রানিশিমুল ইউনিয়ন ও সহ-সভাপতি শ্রীবরদী উপজেলা শ্রমিকদল। কিন্তু প্রশাসনকে অবহিত করার পরিবর্তে তারা সুকৌশলে ট্রলির চালক পরিবর্তন করে মালামাল হাসধরা বিল এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মালামাল আত্মসাতের চেষ্টা করার সময় স্থানীয়রা তাদের হাতে-নাতে ধরে ফেলে। পরে বি,জি,বি কে খবর দিলে তারা মালা-মাল উদ্ধার করে তাওকোচা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
পরে পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, নেতারা তাদের সহযোগীদের নিয়ে পণ্য লুট করছে এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকি দিচ্ছে। এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহম্মেদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শ্রীবরদী উপজেলা শ্রমিকদলের ভেতরেও এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে বলেছেন, এমন কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রানীশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ বলেন, দলীয় কেউ অবৈধ্য মালামাল লুটপাটের সাথে জড়িত নয়। কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষ তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠিক সম্পাদক মিল্লাত আকন্দ বলেন, লূটপাটের সাথে যারা জড়িত তারা আমাদের দলভুক্ত নই। কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ভিডিও ভাইরাল হলেই হবে না অবিলম্বে লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।