ঈদুল আজহার অবিচ্ছেদ্য অংশ কোরবানি। আর কোরবানির অবিচ্ছেদ্য অংশ সুস্থ-সবল পশু। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার ইবাদতের জন্য এই পশু জবাই করার নামই কোরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত তিন দিন পশু জবাই করা জায়েজ। তবে কোরবানির জন্য পশুতে যেসব দোষ-ত্রুটি থাকলে কোরবানি দেয়া যাবে, যাবে না তা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
কোরবানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় ইবাদত। কোরবানির সঙ্গে আত্মত্যাগের মহিমা মিশে আছে। সেই আত্মত্যাগ যাতে যথাযথভাবে পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।
পশুতে যেসব দোষ-ত্রুটি থাকলে কোরবানি হবে না
কোরবানির পশু দোষত্রুটিমুক্ত হতে হবে। পশুর মধ্যে কিছু ত্রুটি থাকলে, কোরবানি দেয়া যাবে না। সেগুলো এখানে উল্লেখে করা হলো:
১. দৃষ্টিশক্তি না থাকা।
২. শ্রবণশক্তি না থাকা।
৩. অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ-শীর্ণ হওয়া।
৪. এই পরিমাণ লেংড়া যে জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম।
৫. লেজের বেশির ভাগ অংশ কাটা।
৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা।
৭. কানের বেশির ভাগ কাটা।
৮. গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া।
৯. পাগল হওয়ার কারণে ঘাস-পানি ঠিকমতো না খাওয়া।
১০. বেশির ভাগ দাঁত না থাকা।
১১. রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া।
১২. ছাগলের দুটি দুধের যেকোনো একটি কাটা।
১৩. গরু বা মহিষের চারটি দুধের যেকোনো দুটি কাটা।
মোটকথা, কোরবানির পশু বড় ধরনের দোষত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে।
যেমন আল্লাহর রাসুল (সা.) হাদিসে বলেছেন, ‘চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না। অন্ধ—যেটার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত—যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু—যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত—যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৪৪)
যেসব ত্রুটি থাকলেও কোরবানি দেয়া যাবে
পশুতে কিছু ত্রুটি থাকলেও কোরবানি দেয়ার সুয়োগ রয়েছে বা জায়েজ। সেগুলো হলো:
১. পশু পাগল, তবে ঘাস-পানি ঠিকমতো খায়।
২. লেজ বা কানের কিছু অংশ কাটা, তবে বেশির ভাগ অংশ আছে।
৩. জন্মগতভাবে শিং নেই।
৪. শিং আছে, তবে ভাঙা।
৫. কান আছে, তবে ছোট।
৬. পশুর একটি পা ভাঙা, তবে তিন পা দিয়ে সে চলতে পারে।
৭. পশুর গায়ে চর্মরোগ।
৮. কিছু দাঁত নেই, তবে বেশির ভাগ আছে। স্বভাবগত এক অণ্ডকোষের পশু।
৯. পশু বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে বাচ্চা জন্মদানে অক্ষম।
১০. পুরুষাঙ্গ কেটে যাওয়ার কারণে সঙ্গমে অক্ষম। তবে উত্তম হচ্ছে ত্রুটিমুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া, ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কোরবানি দেয়া অনুচিত।