তেলের মূল্য বাড়িয়ে জ্বালানি বিভাগ কারাদণ্ড পাওয়ার মতো অপরাধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।
৬ আগস্ট (শনিবার) সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। শামসুল আলম বলেন, নিয়মকানুন, স্ট্যান্ডার্ড, এথিকস কোনো কিছুই মানা হয়নি (তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে)। আমরা বুঝতে পারছি যে জ্বালানি বিভাগ বেসামাল হয়ে পড়েছে। সরকারকে এ রকম একটা সময়ে, এ রকম একটা অবস্থায় তারা যথাযথ পরামর্শ দেবে। তারা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বেপরোয়া আচরণে আমরা হতভম্ব, আমরা নির্বাক। এ রকম মূল্যবৃদ্ধির এখতিয়ার বিইআরসি ছাড়া কারও নেই এবং বিইআরসি গণশুনানির ভিত্তিতে মতামত নেবে। মতামতের ভিত্তিতে তারা বিশ্লেষণ করে দেখাবে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি না।
তিনি বলেন, যৌক্তিকতা নেই বলেই তারা (জ্বালানি বিভাগ) আইন লঙ্ঘন করেছে। শাস্তিযোগ্য, কারাদণ্ডের, অর্থদণ্ডের মতো অপরাধ করেছে। তারা এ ধরনের বেপরোয়াভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছে, যা সিডর-আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও ভয়াবহ। এর প্রভাব কী হতে পারে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবে না। আমার পক্ষে অনুমান করে বলা সম্ভব নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ৫ আগস্ট (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতেই ডিজেল, কেরোসিন পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ডিজেল ও কেরোসিনের লিটার ৮০ থেকে ১১৪ টাকা, অকটেনের লিটার ৮৯ থেকে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের লিটার ৮৬ থেকে করা হয়েছে ১৩০ টাকা। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম কার্যকর হয়।