প্রতিটি পরিবারেই সবার চোখের মনি হয়ে থাকে আদরের ছোট্ট শিশুটি। শিশুর যত্নে আর পরিপূর্ণ বিকাশে বাবা মা সবসময়ই ব্যস্ত সময় পার করে। সন্তানের সুরক্ষায় তাই আজ আপনাদের জানাব, কেন শিশুকে নিয়মিত ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন। এর জন্য কোন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারগুলো শিশুর জন্য বিশেষ উপযুক্ত তাও জেনে নিন আজকের আয়োজনে।
শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব হলে নানা উপসর্গ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এগুলো হলো-
১. চুল পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি রয়েছে।
২. হাড়, পেশিতে দুর্বলতা এবং ব্যথা, অস্থিসন্ধির বিকৃতি এবং দীর্ঘস্থায়ী পিঠে ব্যথা ভিটামিন ডি’র ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ হতে পারে।
৩. শরীরে ভিটামিন ডি’র মাত্রা কম হলে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ দেখা দিতে পারে, যা ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
৪. স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে, ভালোভাবে বিশ্রাম নিয়েও যদি আপনি অলস এবং ক্লান্তবোধ করেন, তবে বুঝতে হবে, আপনার ভিটামিন ডি’র অভাব রয়েছে।
৫. অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়াকেও ভিটামিন ডি’র ঘাটতি বলে মনে করা হয়। কিংবা হঠাৎ ওজন কমতে থাকা, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণও ভিটামিন ডি’র অভাব হতে পারে।
৬. শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমতে শুরু করে। এ কারণে ঘা শুকাতেও অনেকটাই সময় লেগে যায়।
৭. অকারণে ক্লান্তিভাব, ঝিমুনি এবং শুয়ে-বসে থাকার ইচ্ছে হতে পারে শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাবে।
৮. থাইরয়েডে সমস্যা, মেরুদণ্ডের ব্যথা ও অসময়ে দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব হলে।
৯. ভিটামিন ডি’র অত্যাবশ্যকীয় অভাবে পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যেতে পারে। এ ছাড়াও গাঁটে ব্যথা এবং বৃদ্ধরা বাতের সমস্যায় ভোগেন।
১০. শিশুদের রিকেট রোগ, বড়দের অস্টিওমিলেশিয়া এবং বয়স্কদের হাড়জনিত ক্ষয় রোগের বড় কারণ ভিটামিন ডি।
শিশুর খাবারের উপযোগী যেসব ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার রয়েছে তা হলো-
তাই শিশুর ডায়েটে নিয়মিত রাখুন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার। এর জন্য আপনি আপনার সন্তানকে খাওয়াতে পারেন প্রতিদিন একটির করে ডিমের হলুদ অংশটি। এটি ভিটামিন ডি এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস।
দুধে ভিটামিন ডি রয়েছে। খাবারের ছয়টি উপাদানের পাশাপাশি গরুর দুধে রয়েছে ক্যালশিয়াম, যা শিশুর পরিপূর্ণ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর ডায়েটে রাখতে পারেন দইও। পেটের সুরক্ষায় আর গরম থেকে স্বস্তি পেতে নিয়মিত শিশুকে দই খাওয়ানো উচিত। ভিটামিন ডি’র জন্য শিশুদের কমলা খাওয়াতে পারেন। এতে একইসঙ্গে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
এসব খাবারের পাশাপাশি শিশুকে সকালের রোদ পোহাতে দিন। নিয়মিত সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি প্রতিদিন ১৫ মিনিট সূর্যস্নান করলে শিশুর শতভাগ ভিটামিন ডি এর চাহিদা নিশ্চিত হবে।