প্রচণ্ড গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। এমন সংকটময় সময়ে স্বাস্থ্য বজায় রাখা সহজ কাজ নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও, কর্মী, অফিসের কর্মী, মহিলা এবং শিশুরা স্কুলে কী খাবে তা সাবধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গরমে কমবেশি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এর অন্যতম কারণ হল দুর্বল পুষ্টি। এ সময় কিছু খাবার শরীরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
শেফ জাহিদা বেগম, হেড অব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (কুলিনারি ট্রেনিং), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং, ট্যুরিজম কর্পোরেশন, গ্রীষ্মকালীন খাদ্য সচেতনতা নিয়ে কথা বলেন। তার মতামত টাইমস নিউজের পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হল:
গরমে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অতিরিক্ত ঘামের জন্য যেন শরীর পানিশূন্য না হয়ে পড়ে। অর্থাৎ প্রথম পদক্ষেপ হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা। দৈনিক একজন সুস্থ মানুষের ন্যূনতম আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। তবে পরিশ্রম ও রোদে অবস্থানের সাথে আনুপাতিক হারে এর পরিমাণ বাড়তে পারে। এ ছাড়া লেবুর শরবত খাওয়া যেতে পারে।
সহজে হজম হয় বাচ্চাদের এমন খাবার দেয়া উচিত। টিফিন দেয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বেশি ঝোল বা তরল (ময়েশ্চার) না থাকে। কারণ খাবারে যত বেশি ময়েশ্চার থাকবে তত বেশি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া খাবার যত শুকনো হবে তত দূষণ ঝুঁকি কম হবে।
গরমে বাচ্চাদের মেয়োনিজযুক্ত খাবার টিফিনে না দেয়ায় ভালো। যেমন- চিকেন সেন্ডুইচ, বার্গার ইত্যাদি। বাচ্চাদের গরমে সকালের নাশতা হিসেবে টক দইয়ের সাথে কিছু স্ট্রবেরি ব্লেন্ড করে দিতে পারেন। সাথে পরিমাণমতো প্লেন কেক মিশিয়ে নিতে পারেন। বড়দের ক্ষেত্রে কেকের পরিবর্তে টকদই আর ফ্রুটসের সাথে ওটস মিশিয়ে খেতে পারে। যা গরমে স্বস্তিদায়ক একটি খাবার।
এ ছাড়া চিকেনের কাবাব অর্থাৎ কিমা চিকেন, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আদা, রসুন, লবণ দিয়ে মেখে সাথে একটু ডিম আর ময়দা মিশিয়ে পেস্ট করে পানিতে কুক করে, রুটিতে রোল করে টিফিন হিসেবে দেয়া যেতে পারে। বড় কিংবা বাচ্চা যে কেউ খেতে পারবে এটি। সাথে আলাদা করে সালাদ যোগ করা যেতে পারে।