গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বন বিভাগের প্রায় ১২ একর জমি দখল হয়ে গেছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে এই জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে একটি প্রভাবশালী মহল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মূল্যবান সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করে কবরস্থান ও খেলার মাঠ করে দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর। তবে দখলদারদের দাবি, বন বিভাগ নোটিশ করলে ওই জমি ছেড়ে দেবেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশের মাথায় মহাসড়কের উভয় পাশে মীরপুর মৌজায় আর এস ৩৩১ ও ৩৬৪ দাগে বন বিভাগের ১১.৬৯ একর জমি রয়েছে। বন বিভাগের এই জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও দোকানপাট। তৈরি করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর। মূল্যবান এ জমি বেহাত হলেও কিছুই জানে না বন বিভাগ।
স্থানীয় আব্দুস সালাম জানান, বন বিভাগের ওই জমি দখল করে আব্দুল মজিদ নামের একজন ইটভাটা করেছিলেন। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ইটভাটা বন্ধ হয়ে যায়। পরে দীর্ঘদিন জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। বনের কিছু জমিতে ট্রাক স্টেশন গড়ে তোলে প্রভাবশালীরা। গত কয়েক মাসের মধ্যে অপর পাশের জমিতেও সেলিম নামের এক ঝুট ব্যবসায়ী গড়ে
তুলেছেন ঝুটের গুদাম ও দোকানপাট। বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব মূল্যবান জমি বেহাত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিম রহমান জানান, সরকারি সম্পত্তি রাতারাতি কীভাবে দখল হয়ে গেল এ বিষয়ে জানি না। এসব জমিতে দোকানপাট ও স্থাপনা তৈরি করতে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ঝুট ব্যবসায়ী সেলিম শেখ জানান, এখানে দীর্ঘদিন আব্দুল মজিদ নামের এক ব্যক্তি ইটভাটা চালিয়ে আসছিলেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন হওয়ার পর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল জমিটি। পরে আব্দুল মজিদের ছেলে আবু সাইদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ঝুটের গোডাউন তৈরি করেছি। নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের পাশে ইটের বাউন্ডারি করা হয়েছে। তবে বন বিভাগ ব্যবস্থা নিলে ওই জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান সেলিম।
কালিয়াকৈর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, দখলের বিষয়টি জানতে পেরে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।