কবিতার নাম: “ভাবনার নীল বিকেল”
ব্রহ্মপুত্রের তীরে জন্ম নেওয়া,
মাটির গন্ধে ভেজা এক নাম— ভাবনা,
নদীর স্রোতের মতো নরম তার ছোঁয়া,
গ্রামের আকাশ জুড়ে তারই ঠিকানা।
পড়ন্ত এক দুপুরের নীরব আলাপে,
ডিপ্রেশনের আঁধারে ছিলাম হারিয়ে,
অনিচ্ছার শব্দে শুরু হয়েছিল গল্প,
আজ সে গল্প হৃদয়ে গাঁথা নীরবে জড়িয়ে।
প্রথমে ছিল দূরত্ব, কিছুটা অনীহা,
তারপর বন্ধুত্বে রঙিন হলো দিন,
কথার ভাঁজে লুকানো হাসির আলো,
ভাবনাই হয়ে উঠল আপন এক চিন।
সে যেন ফুটন্ত লাল গোলাপের রূপ,
অথবা শীতের ভোরে ঝরা শিউলি,
অমাবস্যার রাতে একফোঁটা তারা,
অন্ধকারে জ্বলে ওঠা নীরব আলোকঝুলি।
তবু আজ সে কেন এত অভিমানে ভরা,
কেন তার চোখে জড়তা আর ক্ষোভ?
যে মুখে মায়া, যে হাসিতে আলো,
সেই মুখে রাগ মানায় না কোন রূপকথার রব।
ভাবনা, তুই তো মাটিরই মেয়ে,
বাতাস, পানি, প্রকৃতির গান,
তোর মিষ্টি চেহারায় অভিমান মানে—
স্রষ্টার সাথে যেন করে অবমান।
রাগ যদি আসে, আসুক ক্ষণিক,
হাসি যেন ফেরে তোর ঠোঁটের কোণে,
কারণ তুইই তো সেই নীল বিকেল,
যার আলো হারিয়ে যায় না কোনদিন মনে।