পাবনার সাঁথিয়ায় স্বামী-স্ত্রী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে,ফেসবুক ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা।
২০ নভেম্বর (শনিবার) ও ২১ নভেম্বর (রোববার) তাদের মৃত্যু হয় সাঁথিয়া ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। নিহতরা হলেন- মানিক হোসেনের মেয়ে মারিয়া খাতুন (১৮) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মানমদপুর গ্রামের ও রমজান আলী ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ব্যাপারী (২৫) একই উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্ধা।
পরিবার থেকে জানা গেছে, ১৮ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে মারিয়া ও তার স্বামীর মধ্যে কলহ হয় ফেসবুক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। পরে কীটনাশক পান করে মারিয়া। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্বজনরা সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে যায় দু’দিন পর। শনিবার সকালে মারিয়া হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। বিকেলে মারা যায় মারিয়া পথেই। মরদেহের সুরতহাল শেষে এরপর হস্তান্তর করা হয়।
শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর দাফন-কাফন শেষ করে সন্ধ্যার পর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রাকিব নিজ বাড়িতে। স্বজনরা পরে তাকে দ্রুত সাঁথিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় অবস্থার অবনতি হলে। রাকিব পরে ভোরে মারা যায়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় রোববার সকালে ।
স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিকভাবে বছর খানেক আগেবিয়ে দেওয়া হয় রাকিব ও মারিয়া মধ্যে এর আগে তাদের ভিতর প্রেমের সম্পর্ক ছিল । দুজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত, বিয়ের পর থেকেই। গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে মাঝেমধ্যে সালিশও হতো। দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না এরপরও।
মানিক হোসেন (মারিয়ার বাবা )বলেন, দু’জনের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত, পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই। মাঝেমধ্যে নির্যাতন করতো জামাই মেয়েকে। আমার বাড়িতে চলে আসত মেয়ে মনোমালিন্য করে। আবার বুঝিয়ে জামাই বাড়িতে রেখে আসতাম। দু’জনই যেহেতু মারা গেছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের কোনো দাবি নেই। তবে আমি এখন নিঃস্ব বাবা হিসেবে।
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম (সাঁথিয়া থানা ) জানান, দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে সুরতহাল শেষে। একটি অভিযোগ দায়ের করেছে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে। একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে সেটার আলোকে রোববার বিকেলে। মেয়ের চাচা আনিছুর রহমান মামলার বাদী হয়েছেন।