কনে নিয়ে যাওয়া হলো না বরপক্ষের! বিদায় নিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে নাচানাচির সময় কনে পক্ষের একজনের সঙ্গে বরপক্ষের একজনের ঝগড়া গিয়ে গড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে। এ সংঘর্ষের সময় ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করায় বর পক্ষের রাহুল বাসফোর নামে একজন যুবক নিহত হয়েছেন। ফলে বিয়ের আনন্দ পরিণত হয় শোকে। শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ এখন কনে বাড়িতে। আর বর নিহত বন্ধুর পাশে হাসপাতালে।
০৭ মার্চ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ষ্টেশন পাড়া এলাকায় সুইপার কলোনিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের পুরাতন ষ্টেশন পাড়া সুইপার কলোনির প্রতাপ বাসফোরের কন্যা অন্তরা বাসফোরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার পৌরসভা এলাকার পি কে বিশ্বাস রোডের অধিবাসী স্বপন বাসফোরের ছেলে রনি বাসফোরের ৬ মার্চ দিনগত মধ্যরাতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর সকালে নাস্তা খাওয়ার পর বিয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি চলছিল। তখন বাজনার তালে তালে নাচানাচির সময় কনের বাড়ি লাগোয়া এক প্রতিবেশী যুবকের সাথে বর পক্ষের এক যুবকের ঝগড়া বাধে। যা মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় বর পক্ষের রাহুল বাসফোরের বুকের বাম দিকে ছুরি মারে কনের বাড়ির পাশের এক যুবক। পরে আহত অবস্থায় রাহুল বাসফোরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বরযাত্রী রাহুল বাসফোর গাইবান্ধার কাচারিপাড়া এলাকার প্রদীপ বাসফোরের ছেলে এবং সে গাইবান্ধা জজ কোর্টে মাস্টাররোলে সুইপার হিসেব কাজ করতো।
কনের বাবা প্রতাপ বাসফোর জানান, প্রতিবেশীরা অহেতুক ঝগড়া বাধিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোসহ তার কন্যার জীবনটা বিষময় করে তুলেছে। কন্যাকে শেষ পর্যন্ত তার স্বামীর কাছে পাঠাতে পারবেন কি না তা নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা।
এদিকে বরযাত্রী বিজয় বাসফোর (৫০) ও রাজিন বাসফোর (৩৫) জানান, তার শতাধিক বরযাত্রী এসেছিলেন। রাতে সুন্দরভাবে বিয়ে সম্পন্ন এবং খাওয়া দাওয়া হয়েছে। তারপর তৈরি মঞ্চ এবং প্যান্ডেলে রাতভর নাচ গান হয়েছে। সকালে নাস্তাও খেয়েছেন। কনে নিয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় হঠাৎ করে ঝগড়া বাধে। এর জেরে সংঘর্ষ হয় ও এ সংঘর্ষে একজন নিহত হয়।
এ প্রসঙ্গে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার জানান, হাসপাতালে গিয়ে নিহত রাহুল বাসফোরের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত রাহুল বাসফোরের বাবা স্বপন বাসফোর বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার মূল আসামি জগদীশ বাসফোরের ছেলে বিজয় বাসফোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।