লক্ষ্মীপুরে গোয়ালঘর থেকে সিমু আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৬ মার্চ (বুধবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা এলাকা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকেই তার শ্বশুর হারিছ মাঝি পলাতক রয়েছে।
সিমুর পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ঐ বাড়িতে ভিড় জমায়।
নিহতের স্বজনরা জানায়, ৮ বছর পূর্বে চরমনসা গ্রামের ওমান প্রবাসী আবুল বাশারের সঙ্গে কুশাখালি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কুশাখালি গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে সিমুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে শাহাদাত হোসেন নামে ৬ বছরের এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সিমুর সঙ্গে প্রায়ই শ্বশুর হারিছ মাঝি, শাশুড়ি রহিমা বেগম, ৩ ননদ সুমি আক্তার, স্বপনুর আক্তার ও শাহনাজ আক্তারের ঝগড়া লাগত। তাদের পরিবারে কলহ লেগেই থাকত।
১৫ মার্চ রাতেও মোবাইল ফোনে হাজেরা তার ছেলে বাশারের কাছে সিমুর নামে বিচার দেয়।
এর আগে শশুর-শাশুড়ি ও ননদরাও তাকে বকাঝকা করে। রাতেই বাশার তার শশুর-শাশুড়িকে ফোন দেয়। এ সময় সিমুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধমক দেওয়া হয়। সিমুর সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলেও জানান তিনি। ঝগড়ার কারণেই সিমুকে তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদরা হত্যা করে পরিকল্পিতভাবে গরুর ঘরে ফাঁস লাগিয়ে রেখেছে বলে দাবি করেন স্বজনরা।
সিমুর মা বকুল বেগম বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এখন আত্মহত্যা বলে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।