যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া বারহাট্টা উপজেলার হাজিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইন উদ্দিন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় স্কুলে ঢুকতে চাইলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তোপের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
গত, ১৪ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার হাজিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পরদিন, ১৫ মার্চ শিক্ষার্থীদের যৌন-হয়রানির অভিযোগ ও মামলায় দীর্ঘদিন বরখাস্ত থাকা ঐ শিক্ষক আইন উদ্দিনের পুনর্বহাল বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। বিদ্যালয়টির বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকাবাসীর ব্যানারে এদিন বিকেলে কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে ১৬ মার্চ (বুধবার) ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি জমিদাতা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমসান গণি তালুকদার।
তিনি জানান, টাকা দিয়ে সবখানে ম্যানেজ করে আইন উদ্দিন পুনর্বহাল চাইলেও তা হতে দেয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ রয়েছে এবং সে যে আদেশ দেখিয়ে স্কুলে যেতে চাচ্ছিল তাতে লেখা ১৫ কার্যদিবসে বিষয়টি স্কুল কমিটি ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সে ১০ দিনের মাথাতেই পুলিশ নিয়ে স্কুলে যায়। এ বিষয়টি ইউএনওকে জিজ্ঞেস করেছি। পরে সকলের তোপের মুখে দৌড়ে গিয়ে এসিল্যান্ডের গাড়িতে ওঠে চলে যায়। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল সেটির জন্য সে হাজত খেটেছে। ঐ ঘটনায় জেলার সকল মানুষ সোচ্চার হয়ে পথে নেমেছিল। এসবের সব রেকর্ড আছে। পরে লুকিয়ে কোনো স্বাক্ষ্য প্রমাণ না করিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়ে আবারও স্কুলে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। এটি আমাদের জন্য লজ্জা। আমরা প্রয়োজনে আবারও কোর্টের দারস্থ হবো।
এ ব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, আইন উদ্দিন আবিট্রেশনের রায় নিয়ে আমার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। সোমবার সহকারি কমিশনার, একাডেমিক সুপারভাইজার ও পুলিশসহ তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তাকে ঢুকতে দেওয়া হয় নাই বলে শুনেছি। শিক্ষার্থীরা না কি মিছিলও করেছে।
এদিকে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আমরা ঐ অভিযুক্ত শিক্ষকের পুনর্বহাল বাতিলের দাবিতে আবেদন পাঠিয়েছি ১৩ মার্চ। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। স্কুলের ইজ্জতের বিষয় এটি।
জানা যায়, গত চার বছর আগে হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগে মামলা হয়। এই মামলায় তিনি কিছুদিন হাজতবাসও করেন। এ অবস্থায় শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আইনউদ্দিন অতিরিক্ত টাকাওয়ালা হওয়ায় পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে অভিযোগকারীরা নীরব হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সোচ্চার মহলেও একসময় নীরবতা নেমে আসে। পরে শিক্ষা অধিদফতর তার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে ও তাকে স্ব-বেতনে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়।