ঢাকার শ্যামবাজারের আড়তে পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেরার পথে অজ্ঞানপার্টির বিক্রি করা পেয়ারা খেয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন রাজবাড়ীর ১০ পেঁয়াজ চাষি। শনিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-নারুয়া-বালিয়াকান্দি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়া ঐ ১০ পেঁয়াজ চাষি হলেন- বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ডহর পাচুরিয়া গ্রামের নিকাত প্রামাণিকের ছেলে রবিন (২২), কোরবান মণ্ডলের ছেলে সেলিম মণ্ডল (১৮), একাব্বারের ছেলে রিপন (৩০), ইসলামের ছেলে সোহেল (১৯), আলাউদ্দিনের ছেলে নুরাল (৩০), বাবর আলীর ছেলে মালেক (৪০), মানিকের ছেলে করিম মল্লিক (৫০), মাসুদ আলীর ছেলে গোলাপ সেখ (৫৫), নিজয় প্রামাণিকের ছেলে বিল্লাল (২৫),সোনার সেখের ছেলে রমেজ (৪৮)।
ঐ ১০ জনের ৯ জন বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল চিকিৎসাধীন। আর রমেজ শেখের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অজ্ঞান রাজবাড়ীর ১০ পেঁয়াজ চাষির সঙ্গে আরও দু'জন চাষি ছিলেন। তাদের একজন হলেন মালেক মণ্ডল।
তিনি জানান, ২৫ মার্চ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ডহর পাঁচুরিয়া গ্রাম থেকে বেশি লাভের আশায় ১২ জন পেঁয়াজ চাষি ২টি ট্রাক ভাড়া করে নিজেদের পেঁয়াজ রাজধানীর শ্যামবাজার আড়তে নিয়ে যায়। শনিবার সকাল ৯ টায় ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার জন্য গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন। তারা ঢাকা-নারুয়া- বালিয়াকান্দি রুটের সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। বেলা আড়াইটায় বাস ছাড়ার আগেই বাসে বসে ঝাল মেশানো পেয়ারা খান ঐ ১০ জন। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর মানিকগঞ্জ আসার পর টের পেলে গাড়িচালক রাজবাড়ী গিয়ে তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক অচিন্ত্য কুমার কীত্তনীয়া জানান, অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়া ব্যক্তিরা সবাই আশঙ্কামুক্ত। এদের মধ্যে একজনকে পরিবারের ইচ্ছার কারণে ফরিদপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।