যাত্রী সেজে গণপরিবহনে উঠে প্রথমে কাগজপত্র চুরি। ফেরত দেয়ার কথা বলে মালিকদের জিম্মি করে চলে চাঁদাবাজি। প্রায় দেড় হাজার বাস থেকে মাসের চুক্তিতেও আদায় করা হয় টাকা। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে (শনিবার) মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে চক্রের মূলহোতা রাকিবসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
যাত্রীবেশে গণপরিবহনে উঠে গাড়ির কাগজপত্র চুরি করত একটি চক্র। এরপর ফোন করে গাড়ির মালিকদের কাছ থেকেই টাকা দাবি করত তারা। দাবি না মানলে কাগজপত্র এমনকি বাস পুড়িয়ে ফেলার হুমকিও দেয়া হতো।
হুমকিতে ভয় পেয়ে অনেক বাস মালিক পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায় আপসও করেন। আবার অনেকে অত্যাচার থেকে বাঁচতে চক্রটির সঙ্গে মাসিক চুক্তি করে ফেলেন।
এমনই কিছু বাস মালিকের অভিযোগে মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পুলিশ বলছে, ২০২০ সালে রাকিব ওরফে তুফান বাসের কাগজ প্রথম চুরি করা শুরু করে। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ২৮ দিনে ৫৬টি সিম পাল্টান তিনি।
১৭ জুলাই (রোববার) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পশ্চিমের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মূলহোতা রাকিব মিয়া ওরফে তুফান এবং তার তিন সহযোগী শুকুর আলী (২৮), হৃদয় হোসেন (২১) ও মো. শামিমকে (২৫) গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে অনেকগুলো বাসের চুরি যাওয়া রেজিস্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুফানসহ গ্রেফতার হওয়া অন্যরা স্বীকার করে, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে মোবাইল চুরি করে। পরে তারা ওই মোবাইল দিয়ে ফোন করে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়।
চক্রের আরও অন্তত পাঁচ সদস্যকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিআইডি।