চান্দিনায় এক মাস ধরে অনুপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান; সেবা বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ
সংবাদ প্রকাশের পর আত্মসাৎকৃত সেই প্রকল্পের কাজ করার চেষ্টা; এলাকাবাসীর বাঁধা
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ৩নং মাধাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। ওই চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ এর রাজনীতি করতেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত রয়েছেন এই চেয়ারম্যান। এতে ইউনিয়নটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেবা গ্রহিতারা দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্য চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন- বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান, তার ভাই ও ছেলে সহ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মাধাইয়া বাস স্টেশনে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছিলেন।
এদিকে রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউনিয়নের ৮জন মেম্বার। ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য এবং ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেন।
অপরদিকে চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এনিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আত্মসাৎকৃত ‘আলীরটেক আকমত আলী কাজীর বাড়ি হতে নাছিম ড্রাইভারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ’ প্রকল্পের কাজটি করার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যানের ভাই মো. জসিম উদ্দিন ও তার লোকজন। পরে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে কাজটি করতে ব্যর্থ হন চেয়ারম্যানের লোকজন।
৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আল আমিন অভিযোগ করেন- এই প্রকল্পের কাজ গত ১৫ জুন শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না করেই গত ৪ জুলাই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ওই চেয়ারম্যান। এখন অভিযোগের খবর পেয়ে কাজটি পুনরায় করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাদের প্রতিহত করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাধাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাবের মো. সোয়াইব বলেন- ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত টিম গঠন করে রিপোর্ট প্রদান সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’