টানা বৃষ্টি ও ফারাক্কার ১০৯টি গেইট খুলে দেয়ায় পদ্মা নদী হয়ে ভারত থেকে আসা অতিরিক্ত পানি প্রবেশ করেছে বসতবাড়ির আশপাশে। এতে প্লাবিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর, শিবগঞ্জ উপজেলা পাঁকা, দুর্লভপুর, মনাকষা ও উজিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়ে পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ১১ হাজার পরিবার। জলাবদ্ধতার কারনে বন্ধ হয়েছে কয়েকটি বিদ্যালয়। ভেঙে পড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। লোকালয়েও যাতায়াত করতে ব্যবহার করতে হচ্ছে নৌকার।
প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, পদ্মা নদীতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অতিরিক্ত পানি আসায় আশেপাশের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। বাধ্য হয়েই উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। নদী ভাঙনের পর আকষ্মিক প্লাবিত হওয়ায় চরম বিপাকে স্থানীয়রা। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গরু-ছাগল ও গবাদিপশু নিয়েও চিন্তায় চরাঞ্চল ও পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। পানির নিয়ে তলিয়ে গেছে অন্তত দেড় হাজার বিঘা ধান, আখ ও চরাঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল মাসকালাই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর পানি উপচে নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ও চরের বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী মানুষ।
পাকা ইউনিয়নের দশরশিয়া এলাকার বাসিন্দা শামীম আলী জানান, কয়েকদিন ধরেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এলাকার নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমিগুলো ডুবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া এখানকার অনেক বাড়ির চারিদিকেই পানি আর পানি। শুধু বাড়ির জায়গাটুকু জেগে আছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম আলী জানান, পানি বাড়ায় নিমাঞ্চল যেমন ডুবছে, তেমনি নদী তীরবর্তী মানুষ ভাঙন আতঙ্কেও দিন পার করছে। পানি বাড়ায় তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দুর্গত এলাকার মানুষদের এই মুহূর্তে ত্রাণেরও দরকার বলে তারা জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ও আজম আলী জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যবহৃত হচ্ছে। যেভাবে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে, এমন ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের কিছু বাড়িঘর ডুবে যাবে। কিছু কিছু এলাকায় চরের মধ্যে থাকা বাড়িগুলো ডুবেও গেছে। এমন অবস্থায় পানিবন্দি পরিবারগুলোতে ত্রাণ সহায়তা দরকার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী জানান, শিবগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোর ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। যার কারণে ওইসব বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুতের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যাচাই