হুন্ডির মাধ্যমে প্রথমে টাকা পাঠানো হতো দুবাই, পরবর্তীতে সেই টাকা ডলার হয়ে চলে যেতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকায় কেনা হতো বাড়ি এবং বাংলো। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিদেশে সম্পদ গড়ার তথ্য মিলেছে তার শিল্পগ্রুপের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার জবানবন্দিতে।
পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে জবানবন্দি দেন দু’জন। দুই কর্মকর্তা হলেন- জাবেদের পারিবারিক শিল্পগোষ্ঠী আরামিট গ্রুপের দুই এজিএম আব্দুল আজিজ ও উৎপল পাল।
এভাবে পাচার হওয়া ২৫ কোটি টাকার তদন্ত করতে আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাবেদের শিল্পগ্রুপের দুই কর্মকর্তার আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে টাকা পাচারের নানা তথ্য।
জাবেদের মাত্র ২৫ কোটি টাকা পাচারের একটি মামলা তদন্তে নেমে দুদক কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের করে এনেছে। প্রথম ধাপে চার দেশে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে জাবেদের সম্পদের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরে আরও পাঁচ দেশে তার সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার তথ্যানুযায়ী, ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিতে গিয়ে জাবেদ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে নেয়া হয় ঋণ। সেই ঋণ আরও কয়েকটি নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেই টাকা পাচার করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
ওই মামলা তদন্তে নেমে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আরামিট গ্রুপের দুই এজিএম আব্দুল আজিজ ও উৎপল পালকে নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। এরপর তাদের আদালতের নির্দেশে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সোমবার গ্রেফতার দুই কর্মকর্তা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে বিভিন্ন দেশে কীভাবে টাকা পাচার করা হয়েছে, অবৈধ সম্পত্তি কীভাবে অর্জন করা হয়েছে তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে বলে জানান দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘আসামি আব্দুল আজিজ ও উৎপল পাল উভয়ে জবানবন্দি দিয়ে জাবেদের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। উৎপল পাল জানিয়েছেন, মন্ত্রী থাকার সময় জাবেদ যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ অর্জন করেন। সেই সম্পদের নথিপত্র বিদেশ থেকে আরামিট গ্রুপের কার্যালয়ে আসতো। সেগুলো উৎপলের টেবিলে জমা হতো। এরপর জাবেদের নির্দেশে তাদের গাড়িচালক ইলিয়াছ সেগুলো নিয়ে যেতেন।
দুদকের তথ্যানুযায়ী, আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশের সম্পদ