বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তজুড়ে আতঙ্কের আরেক নাম ‘স্থল মাইন’। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গত তিন বছরে মাইন বিস্ফোরণে হাত-পা হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। কেউ চোরাই পথে গরু আনতে গিয়ে, কেউ সিগারেট বা মাদক বহনের সময় বিস্ফোরণের শিকার হয়েছেন। অল্প টাকার বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্তে প্রবেশ করাই তাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের অনেকেই এখন পঙ্গু হয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো কাটাচ্ছেন ক্র্যাচ বা হুইলচেয়ারে।
এখন সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে হতাহত ঠেকাতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতের পাশাপাশি চলছে নিয়মিত মাইকিং, সচেতনতামূলক সভা ও সর্তকবার্তা প্রচার। মাইন বিস্ফোরণে হাত-পা হারানো ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেই জানানো হচ্ছে এর ভয়াবহতা। পাশাপাশি আহতদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে আনুমানিক ১৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত আশারতলি সীমান্ত। সদর থেকে একটু এগিয়ে গেলেই শুরু হয় পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক। যেখানে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থান করছে বিজিবির আশারতলি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট)।
সাম্প্রতিক এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে ঘিরে আশারতলি বিওপিতে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ১০০ জন নানা বয়সী মানুষ। এদের মধ্যেই ছিলেন সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে হাত-পা হারানো অন্তত ১৬ জন। এরা সবাই এখন চিরতরে পঙ্গু।
সেখানে কথা হয় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দক্ষিণ মৌলভীরকাটা এলাকার যুবক ওমর ফারুকের সঙ্গে। বয়স এখনো ২৫ পেরোয়নি। গেল জুন মাসে সীমান্তে গিয়ে স্থল মাইন বিস্ফোরণে পা হারিয়ে এখন তাকে চলাফেরার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ক্র্যাচের উপর। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে, ক্র্যাচের ভর দিয়ে বর্ণনা দিলেন তিনি তার জীবন পাল্টে দেয়া সেই মুহূর্তের।
তিনি জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির শ্রমিক হিসেবে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে গরু আনতে গিয়ে জুন মাসে চেইনছড়ি সীমান্তে মাইনের বিস্ফোরণে পা হারান তিনি। সামান্য মজুরির আশায় সীমান্তে পা রেখেই এখন সারাজীবনের জন্য পঙ্গু। ঘটনার পর যে ব্যক্তির হয়ে গরু আনতে গিয়েছিলেন তিনি আর খোঁজও নেননি। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে কিছু নগদ অর্থসহ নানাভাবে সহায়তা করা হয়েছে।
সেদিন ছিলেন রামু উপজেলার গর্জনিয়ার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ। এক বছর আগে সীমান্তের ওপারে গরু আনতে গিয়ে স্থল মাইনে দুই পা হারান তিনিও।
তিনি বলেন, কোনো মানুষ যেন ভুলেও আর সীমান্তে না যান। এটা এখন আশপাশের সবাইকে বলি। আমি ভুল করেছি, চাই না অন্যরা একই ভুল করুক।
‘অঁইক্কা বোমা ফোডে, অঁড়ে আর ন যায়ুম’ এই শিরোনামে স্থল মাইন বিস্ফোরণ রোধে সীমান্তে না যাওয়ার প্রচারণা চালাচ্ছে বিজিবি। আশারতলি বিওপিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিত