ভালো দামের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করলেও ফসলের ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণে বিপাকে নওগাঁর কৃষকরা। ফসল রক্ষায় বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেয়ার তাগিদ কৃষি বিভাগের।
নওগাঁর বদলগাছী, মান্দা, মহাদেবপুরসহ সদর উপজেলার কীর্তিপুর ও শোলগাছী এলাকায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়। তবে এবার ছত্রাকের আক্রমণে ফুলকপি, শিম ও বেগুনের পাতা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এসব সবজির আগাম ফলন তোলা হলেও চলতি বছর ফসলই রক্ষা হচ্ছে না।
দিশেহারা কৃষক বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করেও সমাধান পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, এক মাস আগে রোপণ করা ফুলকপির গাছের কচি পাতায় যখন সবুজের ছোঁয়া লাগছিল, তখনই ছত্রাকের আক্রমণ। বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ভেজাল কীটনাশক।
কৃষকরা জানান, ওষুধ ব্যবহার করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠিকমতো ফসলের দামও মিলছে। আবার বৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলের এমন অবস্থা। তবে সমস্যা হলেই কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হুমায়রা মন্ডল বলেন, ‘ভালো ফাঞ্জিসাইড হলে সাতদিন পরপর স্প্রে করা যায়। আমাদের কাছে অনেক নিরাপদ ফাঞ্জিসাইড রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা চাষিদের সেগুলোই ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।’
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের রবি ফসল চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।