সব সময় সব খানে


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

>> হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফাহিম ফয়সাল

>> মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান লালমনিরহাট যুবদল নেতাদের

>> ভাঙ্গায় সাবেক চেয়ারম্যান লাভলুর অভিযোগের প্রতিবাদে প্রবাসী মিঠুর সংবাদ সম্মেলন

>> পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি, সভাপতি রাকিব, সম্পাদক সোহাগ

>> মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানোর উদ্যোগ পূবালী ব্যাংকের

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির।

>> গণশৌচাগার সংকটে লালমনিরহাট শহর, দুর্ভোগে নারী- শিশু-বয়স্করা

>> ভজনপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি জুনায়েদ, সম্পাদক জমির

>> শিক্ষকদের সম্মিলিতস্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: বাদাশিকস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি জয়নুল আবেদীন

আপনি পড়ছেন : সারাদেশ

ঘাসের রস থেকে গুড়, খেতে কেমন


মোঃ মামুন, ডেস্ক রিপোর্ট

eshomoy.com || 2025-10-11
ঘাসের রস থেকে গুড়, খেতে কেমন
সংগৃহীত ছবি

স্বামীর স্বল্প আয়ে সংসারের অভাব অনটনের মাঝে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল গৃহিণী খাদিজা বেগমের। তিন সন্তানের জননী খাদিজা বেগম ঘরে বসে না থেকে নিজের মেধা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে অভাব জয় করে তাক লাগিয়েছেন গ্রামবাসীর মাঝে। ঘাসের ডগার রস থেকে গুড় তৈরি করে সাফল্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের নাওরা মিঠাপুর গ্রামের এই গৃহিণী।


প্রথমে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে বিশেষ ধরনের ঘাস চাষ করেন তিনি। ঘাসের গোড়ার ওপর থেকে ডগার অংশ কেটে তা দিয়ে মেশিনে রস করে তা দিয়ে গুড় তৈরি করেন। আর ঘাসের ওপরের কচি ডগা ও পাতা গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে বিক্রি করেন। এছাড়া তিনি প্রায় ১০০ শতাংশ জমিতে নানা প্রকার শাক-সবজি, ফল ও ফসল আবাদ করে তা বিক্রি করছেন। এতে তার প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। খাদিজার সঙ্গে তার স্বামী সাইফুল ইসলামও এসব কাজে সময় দিচ্ছেন। এতে খেয়ে-পরে সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে বেশ ভালোভাবে চলছেন সাইফুল-খাদিজা দম্পতি। এ উদ্ভাবনী উদ্যোগ তাকে শুধু আর্থিক সচ্ছলতাই দেয়নি, বরং স্থানীয়দের কাছেও তিনি এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি তার ১১৪ শতাংশ জমির মধ্যে প্রথমে ১০ শতাংশ জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন। এ ঘাসের মাঝখান থেকে গোড়া পর্যন্ত কেটে মেশিনে রস করে আগুনে জ্বালিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গুড় তৈরি শিখে নেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলেও তার তৈরি করা গুড় ভালোই সাড়া ফেলেছে। কারণ এ গুড়ে মিষ্টি কিছুটা কম, তাই ডায়াবেটিকের রোগীরা এ গুড় খেতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি প্রতি কেজি গুড় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন এবং গুড় ও ঘাস বিক্রি করে তার দৈনিক গড় আয় প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার চারশ টাকা।

শুধু গুড় তৈরি আর ঘাস বিক্রিই নয়, ১০০ শতাংশের বেশি জমিতে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করেছেন। তার বাগানে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি, আপেল, পেঁপে, আঙুর এবং সৌদি আরবের খেজুর গাছও রয়েছে। বর্তমানে তিনি শুধু পেঁপে ও শাক-সবজি বিক্রি করে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে হাজার টাকা আয় করেন। সবমিলিয়ে তার মাসিক আয় ৬০ হাজার টাকার মতো। যা একসময়ের অভাবের সংসারে এনেছে সচ্ছলতা। তার সন্তানরাও এখন ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে।

নিজের অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে খাদিজা বেগম বলেন, প্রথম দিকে আমার এই উদ্যোগ দেখে অনেকেই হাসাহাসি করেছে, কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন আমার এ কাজ দেখে অনেকেই উৎসাহ পাচ্ছে। আমি চাই আমার মতো আরও অনেক নারী সামনে আসুক এবং স্বাবলম্বী হোক।