দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় খাদ্যশস্য প্রকিউরমেন্ট অর্থাৎ কৃষকের কাছ থেকে চাল, গম, ডাল, ভুট্টার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরকারি উদ্যোগে সংগ্রহ করে গুদামে মজুদ রাখার প্রথা বহুদিনের। এটি শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং কৃষকের ন্যায্যমূল্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং জাতির সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলংকাÑ সব দেশেই এই কাঠামো বিদ্যমান। তবে তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ অন্য দেশের তুলনায় সর্বাধিক সীমাবদ্ধতায় আছে। দেশে ১৮ কোটি জনসংখ্যা থাকলেও প্রকিউরমেন্ট ক্ষমতা কম, গুদামের সংখ্যা ও ধারণক্ষমতা অপ্রতুল, খাদ্য সংরক্ষণ আধুনিক নয়, কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে ব্যর্থতা রয়েছে, এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী। দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৪২ কোটি। প্রতিবছর ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই) কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ৮০-৯০ মিলিয়ন টন চাল ও গম সংগ্রহ করে, যা মাথাপিছু প্রায়
১১৫ কেজি। ভারতের হাতে আছে ১,৯০০-এর বেশি আধুনিক গুদাম, যেখানে একসঙ্গে ৮ কোটি টন শস্য সংরক্ষণ সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা আলাদা, কারণ এই রাজ্যের জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি, যা বাংলাদেশের সমান। প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গে ১৬ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদন হয়, যার মধ্যে ৪-৫ মিলিয়ন টন সরাসরি সরকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। রাজ্যে ৩৫০ সরকারি গুদাম রয়েছে, ধারণক্ষমতা ৬.৫ মিলিয়ন টন। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ হয় এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেওয়া হয়। তবে সব কৃষক এই সুবিধা পান না। বর্ষার সময়ে পুরনো গুদামে চাল নষ্ট হয়। পশ্চিমবঙ্গের পিডিএস (পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) রেশন শপের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছায়, যেখানে ৯০ হাজারের বেশি শপ সক্রিয়। পশ্চিমবঙ্গের এই মডেল তুলনামূলকভাবে সফল হলেও দুর্নীতি, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রশাসনিক জটিলতা এখনও আছে।
পাকিস্তান ২৪ কোটি মানুষের দেশ। প্রতিবছর তারা ২৮-৩০ মিলিয়ন টন গম উৎপাদন করে, যার মধ্যে সরকারি প্রকিউরমেন্ট হয় ৬-৭ মিলিয়ন টন, মাথাপিছু ২৫ কেজি। দেশটিতে ১,২০০ সরকারি গুদাম আছে, ধারণক্ষমতা ৬ মিলিয়ন টন। প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, আর্দ্রতায় ক্ষতি এবং প্রাদেশিক সরকারের অসঙ্গতি রয়েছে। তবুও বাংলাদেশ ও নেপালের তুলনায় পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। খাদ্যশস্য ছাড়াও তারা ওষুধ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও জ্বালানি জাতীয় নিত্যপণ্য সরকারি প্রকিউরমেন্টের আওতায় রাখে।
নেপালের জনসংখ্যা ৩ কোটি। প্রতিবছর নেপাল উৎপাদন করে ৫.৫ মিলিয়ন টন চাল, ২ মিলিয়ন টন গম, ২.৫ মিলিয়ন টন ভুট্টা। কিন্তু সরকারের প্রকিউরমেন্ট হয় মাত্র ২-২.৫ লাখ টন, মাথাপিছু ৮ কেজি। গুদাম সংখ্যা ১৫০,