ইয়াবা পাচারে প্রতিদিনই নিত্যনতুন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মাদক কারবারিরা। সড়কপথ বাদ দিয়ে আকাশপথ বেছে নিয়েই বসে থাকছে না তারা, রুটের পাশাপাশি মাদক বহনে ব্যবহার করছে অভিনব পন্থা। সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাকস্থলীতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পিস ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান জব্দের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ছোট ছোট প্যাকেটে ভরে মোড়ানো হয় স্কচ টেপে। পরে কলার সাহায্যে খেয়ে নেয়া হয় পাকস্থলীতে। একটি-দুটি নয়, ১৩৬টি প্যাকেট গিলে খান বরগুনার পান্নু হাওলাদার। গত ২৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের সামনে থেকে তাকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে সে।
পরে বিমানবন্দরের দায়িত্বরত চিকিৎসের মাধ্যমে এক্সরে করার পর নিশ্চিত হয়ে পান্নুকে নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে। এক্সরে রিপোর্ট দেখে আঁতকে ওঠেন সবাই। পুরো পাকস্থলী পরিপূর্ণ ইয়াবায়। চার দিন ধরে আস্তে আস্তে বের করা হয় তার পেটে থাকা সব ইয়াবা।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ড. মো. বাশার বলেন,
এক্সরে করা হয়েছিল। এক্সরে করার পর সিট খালি ছিল না। পরে ডিরেক্টর স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন উনারা। স্যার সিট ম্যানেজ করে দেন। পরে তাকে ভর্তি করা হয়।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, ‘১৩৬টি প্যাকেট থেকে বের করা হয় ৬ হাজার ৩৭৮টি ইয়াবা। পাকস্থলীতে এত বড় ইয়াবর চালান জব্দ হলো এবারই প্রথম। এমনটা সচরাচর কেউ করে না। প্রথমে তার হাঁটাচলা দেখে সন্দেহ হয়। পরে তাকে আটক করা হলে সে স্বীকার করে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার এক্সরে করাই। নিশ্চিত হওয়ার পর আমাদের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিই। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সে এটার সঙ্গে অনেক দিন ধরেই জড়িত।
গত
৫ মাসে বিমানবন্দরে পাকস্থলীতে ইয়াবা পরিবহনের এটি তৃতীয় ঘটনা। মে ও সেপ্টেম্বর মাসে আরও ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, নজরদারি এড়াতে ইয়াবা পাচারে অভিনব সব পন্থার আশ্রয় নিচ্ছে কারবারিরা।
এ
বিষয়ে অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, মাদকগুলো ব্যাগে থাকলে শনাক্ত করা সহজ হয়। কিন্তু শরীরে বহন করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়।
প্রত্যেকটি ইয়াবা চালান বিমানবন্দরের বাইরে থেকে জব্দ করেছে পুলিশ। আরও বেশি মাদক জব্দে আগের মতো বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের এ কর্মকর্তার।